বগুড়ার ধুনট উপজেলায় শিল্পী খাতুন (৩৭) নামে এক গৃহবধূর ওপর নির্যাতন চালিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় তার স্বামী বাবর আলীকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় উপজেলার এলাঙ্গী বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাবর আলী ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শৈলমারি গ্রামের হবি ফকিরের ছেলে।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরও ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের শৈলমারি গ্রামে গৃহবধূ শিল্পী খাতুন আত্মহত্যা করেন। গত সোমবার (৪ আগস্ট) শিল্পী খাতুনের চাচাতো ভাই পলাশ মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে মঙ্গলবার সকালে এলাঙ্গী বাজার এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
ধুনট থানায় মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শৈলমারি গ্রামের খোরশেদ আলীর মেয়ে শিল্পী খাতুনের প্রায় ১৫ বছর আগে বাবার আলীর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুখেই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। শিল্পী-বাবর দম্পতির ঘরে ২ কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এ অবস্থায় সংসারের নানা সমস্যা নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া-বিবাদ হতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ঝগড়ার একপর্যায়ে বাবর আলী তার স্ত্রী শিল্পী খাতুনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। এরপর বাবর আলী দাওয়াত খাওয়ার উদ্দেশে পার্শ্ববর্তী গ্রামে আত্মীয়র বাড়িতে যান। এদিকে স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে ওই দিন দুপুর ২টার দিকে শিল্পী খাতুন স্বামীর ঘরে তীরের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে পুলিশকে এসে ঘটনাস্থল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের চাচাত ভাই পলাশ মিয়া বাদী হয়ে সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে বাবর আলীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। পলাশ মিয়া শৈলমারি গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই হায়দার আলী বলেন, আশপাশের এলাকার লোকজনকে জিজ্ঞাসা করে জানা যায়, বিয়ের পর আসামি বাবর আলীর সঙ্গে শিল্পী খাতুনের প্রায়ই ঝগড়া হতো। এই ঝগড়া ও স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে শিল্পী খাতুন আত্মহত্যা করেছেন।