বিশ্ব ক্রিকেটে টেস্ট ফরম্যাটের ঐতিহ্য পাঁচ দিনের হলেও, সেটি এবার বদলে যাওয়ার পথে। ছোট দলগুলোর অংশগ্রহণ সহজ করতে চারদিনের টেস্ট চালুর পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সম্ভাব্যভাবে ২০২৭-২৯ চক্রের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এটি কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান।
আইসিসির এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য, কম সময় ও বাজেটের ভেতরে ছোট দলগুলো যেন টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারে। অনেক সময়ই সীমিত বাজেটের কারণে আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ের মতো দলগুলো নিয়মিত টেস্ট আয়োজন করতে পারে না। চারদিনের ম্যাচ চালু হলে তিন সপ্তাহের মধ্যে তিন ম্যাচের সিরিজ আয়োজন সম্ভব হবে।
সূত্র বলছে, আইসিসি সভাপতি জয় শাহও নাকি এই পরিকল্পনার পক্ষে। তার মতে, ক্রিকেটের সাদা পোশাকের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে ছোট দলগুলোকেও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে।
তবে এই নিয়ম শুধু ছোট দলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারতসহ শক্তিশালী দেশগুলোর ক্ষেত্রে পাঁচদিনের ঐতিহ্যবাহী টেস্টই বহাল থাকবে। অর্থাৎ একটি যুগপৎ কাঠামোতে টেস্ট ক্রিকেট এগোবে—ছোটদের জন্য চারদিন, বড়দের জন্য পাঁচদিন।
তবে এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন অনেক সাবেক ক্রিকেটার। বিশেষ করে ইংল্যান্ড-ভারত টেস্ট সিরিজের নাটকীয় পরিণতির পর এ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।
ওভালে রোমাঞ্চকর টেস্ট শেষে এক্স-এ জয় শাহ লিখেন, “আজ বিশ্ব যা দেখল, তা ছিল টেস্ট ক্রিকেটের নিখাদ জাদু।”
এই পোস্টের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ওপেনার হার্শেল গিবস কটাক্ষ করে লেখেন, “তোমরাই তো চেয়েছিলে টেস্ট চার দিনে নামাতে।” এরপর তিনি হাসির দুটি ইমোজিও জুড়ে দেন, বোঝাতে চাইলেন—টেস্টের আসল সৌন্দর্য পাঁচ দিনেই ফুটে ওঠে।
আইসিসি অবশ্য ২০১৭ সালেই পরীক্ষামূলকভাবে চারদিনের টেস্টের অনুমোদন দিয়েছিল। এরপর ইংল্যান্ড ২০১৯ ও ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, এবং ২০২৪ সালে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে চারদিনের টেস্ট খেলে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ইংল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে টেস্ট ছিল চার দিনের।
এই সংস্করণে দিনে ৯৮ ওভার খেলার বাধ্যবাধকতা থাকবে, যেখানে পাঁচ দিনের ম্যাচে প্রতিদিন ৯০ ওভার খেলা হয়