মুরাদনগরের ট্রিপল মার্ডার মামলা

নিরীহদের হয়রানির অভিযোগ, প্রতিবাদে নারীদের বিক্ষোভ

কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে তিনজনকে হত্যার (ট্রিপল মার্ডার) ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিরীহ গ্রামবাসীকে আসামি করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় নারীরা।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) কড়ইবাড়ি স্টেশন এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক নারী ও শিশু অংশ নেন। ‘নিরীহদের হয়রানি বন্ধ করো’ ‘অপরাধীর বিচার চাই’—এমন নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে তারা ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত মাসে কড়ইবাড়ি গ্রামে রুবি আক্তারসহ তিনজন গণপিটুনিতে নিহত হন। নিহত অপর দুজনের একজন পুরুষ ও একজন নারী। ঘটনার পর নিহত রুবির মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নয়জনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের তিন দিন করে রিমান্ডে নেয়।

তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করে একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিরীহ মানুষদের আসামি করছে। ফলে আতঙ্কে গ্রামটির অধিকাংশ পুরুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কড়ইবাড়ি গ্রামের এক নারী বলেন, আমাদের ঘরে এখন উপার্জনক্ষম কেউ নেই। অনেক পরিবার খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। রাত হলেই ডাকাতির ভয়ে ঘুম হয় না।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীরা শাস্তি পাক। কিন্তু নিরীহ মানুষদের ফাঁসিয়ে গ্রামের শান্তি নষ্ট করা যাবে না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি—একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করে আসল ঘটনা তুলে ধরা হোক।’

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত করছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আমরা তাদের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছি। নিরীহ কাউকে হয়রানি করার অভিযোগ সঠিক নয়। প্রমাণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।