রাজশাহীতে জোলাই যোদ্ধাদের ঢাকায় যাওয়ার জন্য ভাড়া করা বিশেষ ট্রেন পছন্দ না হওয়ায় তারা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় বেশ কিছু জুলাই যোদ্ধা রেললাইনের ওপরে বসে পড়েন। কেউ শুয়েও পড়েন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এর ফলে রাজশাহী থেকে ট্রেন চলাচল প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর যাত্রা করে বিশেষ ট্রেনটি। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের জন্য যে বিশেষ ট্রেনটি দেওয়া হয়েছে সেটি মানসম্মত নয়। লোকাল রুটে চলাচলকারী ট্রেন। তারা আশা করেছিলেন, আন্তঃনগর রুটে চলাচলকারী ট্রেন থাকবে তাদের জন্য। গতকাল সকাল সোয়া ৭টার দিকে রেল বিভাগের বরাদ্দ দেওয়া বিশেষ ট্রেনটি যাত্রা উপযোগী নয় দাবি করে স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের রেলপথে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন জুলাই যোদ্ধারা। তারা ট্রেন পছন্দ না হওয়ায় রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি ট্রেনও আটকে দেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সকালে রাজশাহী স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে বিশেষ ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তারা স্টেশনে এসে দেখতে পান, যে ট্রেনটি দেওয়া হয়েছে, সেটি যাত্রা উপযোগী নয় এবং দ্রুত পৌঁছানো যাবে না। সে কারণে ভালো ট্রেন ও বগির জন্য রেলপথে অবস্থান নেন। দাবি আদায়ে আটকে দেন রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন। এর একপর্যায়ে দাবি আদায় নিয়ে আন্দোলনকারীরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। উত্তেজনা তৈরি হলে একপক্ষ রেল বিশেষ ট্রেনে চড়ে ও অন্যপক্ষ সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা রওনা হন।
রেল বিভাগ বলছে, যে ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো যথেষ্ট মানসম্মত। বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি ছিল।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জুলাই যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই ট্রেনে ৫৪৮টি আসন রয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে তাদের ওঠার কথা। রাজশাহী থেকে প্রায় আড়াইশ জন যাত্রী ওই ট্রেনে ঢাকায় গেছেন।
এই ট্রেনটি সকাল ৭টা ২০ মিনিটে রাজশাহী স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু স্টেশনে গিয়ে লোকাল ট্রেন দেখে জুলাই যোদ্ধাদের একাংশ ক্ষুব্ধ হন। তারা আন্তঃনগর বনলতা ও সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো ট্রেনের দাবি করেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, যে রকম ট্রেন দেওয়া হয়েছে, সেই রকম ভাড়াই তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। এ সময় বেশ কিছু জুলাই যোদ্ধা বরাদ্দ করা ট্রেনে উঠতে চাননি। তারা ট্রেনের সামনে বসে পড়েন। অনেকেই শুয়ে পড়েন। ট্রেনটি চলা শুরু করলে একজন সেটিতে ঢিল ছুড়লে চালক থামিয়ে দেন। এ সময় যারা ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন, তারা আর নামতে চাননি। এ নিয়ে তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বাগবিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। শেষে পর্যন্ত ট্রেনে উঠে পড়া যোদ্ধারা সেই ট্রেনেই ঢাকায় রওনা হন। আর কিছুসংখ্যক জুলাই যোদ্ধা সিল্কসিটি ট্রেনে রওনা হন। বিশেষ ট্রেনটি সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। অবশেষে সেটি ৮টা ১৩ মিনিটে রাজশাহী স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। সিল্কসিটি ট্রেনটি নির্ধারিত সময় থেকে ৪৫ মিনিট বিলম্বে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যায়।
রেলওয়ে রাজশাহীর স্টেশনমাস্টার শহীদুল আলম বলেন, কয়েকজন এসে আন্তঃনগর বনলতা ও সিল্ক সিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের মতো ট্রেন দাবি করেন। এ নিয়ে ট্রেন ছাড়তে খানিকটা বিলম্ব হয়েছে। যারা বিশেষ ট্রেনে যাননি, তাদের ৩৫ জনকে আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনে বিশেষ ব্যবস্থায় পাঠানো হয়েছে।