‘সময়ের সঙ্গে বদলেছে কবিগুরুকে বোঝার বিষয়’

আজ বাইশে শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৪তম প্রয়াণ দিবস।  এ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি নতুনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে একুশে পদকপ্রাপ্ত  ও ভারতের পদ্মশ্রী সম্মননায় ভূষিত উপমহাদেশের বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার গাওয়া নতুন একটি রবীন্দ্রসংগীত। ‘শ্রাবণের ধারার মতো’। গানটিতে বন্যাকে সঙ্গ দিয়েছেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী স্বপ্নীল সজীব ও বাচিকশিল্পী সামিউল ইসলাম পোলাক। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘গানটি গাওয়ার সময় মনে হয়েছিল যেন নিজের ভেতরে এক স্তব্ধ প্রার্থনা জেগে উঠছে। রবীন্দ্রনাথ যে কেবল সুরের কবি নন, তিনি হৃদয়ের স্তব্ধতারও কবি, এই সংগীতচিত্রে আমরা সেটাই প্রকাশ করতে চেয়েছি। শ্রাবণ মানেই তো এক ধ্যান, এক অর্ঘ্য। আমি গভীর শ্রদ্ধায় এটি কবিগুরুকে নিবেদন করলাম।’ 

কবিগুরুর গান প্রসঙ্গে নন্দিত এই সংগীতশিল্পী বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের মর্যাদা এত ঠুনকো নয়। যারা রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করেন তাদের আশ্রয় রবীন্দ্রনাথ, এটা আমি আমার জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছি। রবীন্দ্রনাথকে বোঝার বিষয় সময়ের সঙ্গে বদলেছে। এখন নতুন প্রজন্ম প্রযুক্তিগত ভাবে আত্মনির্ভর। তারা নিজেরাই সব পারে। এটা ভালো দিক। খারাপ দিক হল তাদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ চলে না।’

‘সুরের কন্যা’ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বাংলা গানের ভুবনের এক অনন্য সম্পদ। যার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ফিরে আসেন এক জীবন্ত অনুভবে। রবীন্দ্রনাথের গান পরিবেশনায় তিনি যেমন অনন্যসাধারণ একজন শিল্পী তেমনি রবীন্দ্র-গবেষণা এবং শিক্ষাক্ষেত্রেও আন্তরিক ও শ্রমনিষ্ঠ। রবীন্দ্রসংগীতের ভাবমাধুর্য ও সুরলহরি তিনি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন প্রায় একক কৃতিত্বে। 

কবিগুরুর গান তথা রবীন্দ্রচর্চার অনন্য প্রতিষ্ঠান ‘সুরের ধারা’ গড়ে উঠেছে তারই একক প্রচেষ্টায়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত অনগ্রসর শিশুদের জীবনে ‘আলোক শিখা’ জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য গড়ে তুলেছেন আরেক প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়নের জন্য সংগীত’। বিদেশ বিভূঁইয়ে ঘুরে ঘুরে তিনি খুঁজে ফেরেন রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিস্থান। তার জীবন ও চিন্তনজগতজুড়ে সর্বক্ষণই রবীন্দ্রনাথ বিরাজমান। 

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার জন্ম ১৩ জানুয়ারি রংপুরে। তিনি বেড়ে উঠেছেন  বৃহৎ এক সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে। বন্যা এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন যথাক্রমে ধানমন্ডি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও হলিক্রস কলেজ থেকে। তিনি শান্তিনিকেতন থেকে আইসিসিআর বৃত্তি নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। রবীন্দ্রসংগীত ছাড়াও ধ্রুপদী, টপ্পা ও কীর্তন গানের ওপরও শিক্ষা লাভ করেন। এছাড়াও শান্তিনিকেতন থেকে এস্রাজ বাদনে একবছরের ডিপ্লোমা কোর্সও সম্পন্ন করেন।