নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে রনি ডাইং, ফারিয়া স্পিনিং ও জিএম ডাইং নামে তিনটি কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বছরের পর বছর ভোগান্তি পোহাচ্ছে উপজেলার তারাব পৌরসভার রসুলপুর এলাকার প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা। বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে ডুবে থাকে বাড়িঘর ও দোকানপাটসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিষাক্ত পানি দিয়ে হেটে স্থানীয়রা বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও ডাইং কারখানার বিষাক্ত পানিতে রসুলপুর এলাকার জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করে।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষিপ্ত হয়ে ডাইং কারখানার বর্জ্য পানি ফেলার পাইপ গুলো বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার তারাব পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের রসুলপুর এলাকায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। পৌরসভার এই ওয়ার্ডে বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে থাকে। জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ রনি ডাইয়িং, ফারিয়া স্পিনিং ও জিএম ডাইং নামে তিনটি ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে পানি। এ ডাইং কারখানা গুলো ইটিপি ব্যবহার না করে নিজেদের ডাইংয়ের বিষাক্ত পানি একটি পাইপের মাধ্যমে খালে ফেলেন। সেই খাল থেকেই পুরো এলাকায় ডাইংয়ের পানি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে গত কয়েকমাসে কয়েকদিন পরপর টানা বৃষ্টির পানি ও ডাইং কারখানার পানিতে এ জলাবদ্ধতা প্রকোপ আকার ধারণ করেছে।
এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বেশি বেড়ে যায়। এতে করে রাস্তাঘাট বাড়িঘর, দোকান পাটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যায়। চারদিকে জলবদ্ধতার কারণে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে বিষাক্ত পানি দিয়ে চলাচল করতে হয়। জলাবদ্ধতার নিরসনে ডাইং কারখানা গুলোর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার অবস্থান নিতে গেলেও তারাব পৌর ৯নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসালামহ কয়েকজন বিএনপির নেতাকর্মী এলাকাবাসীকে হুমকি ধুমকি প্রদান করে তা বন্ধ করে দেয়। তবে মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ডাইং কারখানা গুলোর পানি নিষ্কাষনের পাইপ বন্ধ করে দেয়। তবে কারখানা মালিকরা যুবদল নেতা রবিউলসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে আবারো বর্জ্য পানি ফেলার পাইপটি খোলার পায়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দারা।
রাহিমা বেগম রেনু নামে এক শিক্ষিকা বলেন, তিনডা ডাইং কারখানার বিষাক্ত পানির লাইগা আমাগো এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িতে পানি উঠছে। আমরা এলাকার মানুষ ডাইং কারখানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চাইলে যুবদল নেতা রবিউল আমাগো হুমকি ধামকি দেয়। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই কারখানা ফেলা বন্ধ করা হউক।
সাকিব নামে এক যুবক বলেন, কারখানার বিষাক্ত পানি দিয়ে হেটে আমাদের হাত পা খোসপাচড়ায় ভরে যাচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী ডাইং কারখানার পানি ফেলার পাইপটি বন্ধ করে দিয়েছি। পানির পাইপ বন্ধ করে দেওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা আমাদের হুমকি ধামকিও দিচ্ছে।
তারাব পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মতিন বলেন, ডাইং কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে পানির কারণে বছরজুড়ে জলাবদ্ধতায় এলাকাবাসী ভোগান্তি পোহাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডাইং কারখানার বিষাক্ত পানি ফেলা বন্ধ না হলে এলাকাবাসী নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করবে। আমরা এ সমস্যার প্রতিকার চাই।
এ ব্যাপারে রনি নিট কম্পোজিট ডাইং কারখানার জেনারেল ম্যানেজার ইসলাম বলেন, আমরা ইপিটি ব্যবহার করি নিয়মিত। আমরা কারখানার পানি পৌরসভার ড্রেনে ফেলার ব্যবস্থা করি। টানা বৃষ্টির কারণে ড্রেনের পানি বেড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে হয়তো। আমরা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে সমাধান করার চেষ্টা করবো বিষয়টি।
এ ব্যাপারে উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকাতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করছে। তবে ডাইংয়ের পানিতে জলাবদ্ধতার বিষয়টি জানা ছিল না জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।