খামেনির উপদেষ্টা থেকে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, কে এই লারিজানি

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আলি লারিজানি। দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার জারি করা এক আদেশে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব সুষ্ঠু পালনে লারিজানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের অধীনে থাকা সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পাশাপাশি নতুন সেক্রেটারিকে বিশেষভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে নজরদারি ও অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন পেজেশকিয়ান। বিশেষ করে উদীয়মান প্রযুক্তিগত হুমকির দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

কে এই লারিজানি

৬৮ বছর বয়সী লারিজানি ইরানে একজন মধ্যপন্থী রক্ষণশীল নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি আলি আকবর আহমাদিয়ানের স্থালাভিষিক্ত হয়েছেন। আহমাদিয়ান ছিলেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একজন জেনারেল এবং ২০২৩ সালের মে মাসে এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের দায়িত্বে থাকলেও, এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অনুমোদন প্রয়োজন হয়।

পরিষদের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে, সেক্রেটারির দায়িত্ব হলো পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন তদারকি করা।

লারিজানি অতীতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্য ছিলেন। এছাড়াও গত তিন দশকে একাধিক শীর্ষ সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০২০ সালের মে মাসে খামেনি তাকে নিজের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন।

এর পরের বছর লারিজানি প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলেও, সরকারের একটি যাচাইকারী সংস্থা তার প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়, যদিও তিনি তখন অন্যতম শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত ছিলেন।

২০০৫ সালে লারিজানি ইরানের পারমাণবিক নীতির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন, তবে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দুই বছর আলোচনা চালানোর পর তিনি পদত্যাগ করেন। কারণ হিসেবে জানান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট, অতিরক্ষণশীল মাহমুদ আহমাদিনেজাদের সঙ্গে তার ‘গভীর মতবিরোধ’ রয়েছে।

২০০৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইরানের সংসদ স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে লারিজানি ২০১৫ সালের ইরান ও বিশ্ব শক্তিগুলোর মধ্যে হওয়া পারমাণবিক চুক্তির পক্ষে সমর্থন দেন।

অত্যন্ত প্রভাবশালী শিয়া মুসলিম পরিবার ও ইরানের একজন গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহর সন্তান লারিজানির পরিবারের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দর্শনে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী।