এবার আমদানি করা সেমিকন্ডাক্টর চিপের ওপর প্রায় ১০০% শুল্ক আরোপের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন সব দেশের ওপর এ শুল্ক আরোপ করা হবে— যারা এ পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন করছে না কিংবা ভবিষ্যতে তা করার পরিকল্পনাও নিচ্ছে না।
বুধবার (৬ আগস্ট) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, ‘যেসব কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অথবা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে, তাদের ওপর এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে না। তবে যদি কেউ বলে যে তারা কারখানা গড়বে কিন্তু বাস্তবে না গড়ে—তাহলে পরে সেটা হিসেব করে যোগ করে শুল্ক আরোপ করা হবে। সেটা নিশ্চিতভাবেই দিতে হবে।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য সরকারিভাবে কোনো শুল্ক ঘোষণার অংশ নয়, এবং তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনো পরিষ্কার নয় যে কোন দেশ বা কত পরিমাণ চিপ আমদানির ওপর এই শুল্ক আরোপ প্রযোজ্য হবে। তাইওয়ানের চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, যাদের যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা করেছে এবং এনভিডিয়া’র মতো বড় কোম্পানির জন্য চিপ সরবরাহ করে, তারা এই শুল্কের আওতায় পড়বে না।
এনভিডিয়া ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি চিপ ও ইলেকট্রনিক্সে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। এই বিষয়ে কোম্পানিটি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এনেক্স ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান জ্যাকবসেন বলেন, ‘যেসব বড় কোম্পানি আমেরিকায় কারখানা গড়ার সামর্থ্য রাখে, তারাই এই সিদ্ধান্ত থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। এটি একরকম ‘সর্ববৃহৎর টিকে থাকা’র প্রতিযোগিতা।’
২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেস ৫২.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি চিপ উৎপাদন ও গবেষণা ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের অধীনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বছর বিশ্বের পাঁচটি বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপনে রাজি করায়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বৈশ্বিক চিপ উৎপাদনের মাত্র ১২% তৈরি হয়েছে, যেখানে ১৯৯০ সালে এ হার ছিল ৪০%।
এই নতুন চিপ শুল্ক মূলত চীনকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হতে পারে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক মার্টিন চোরজেম্পা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে এখন চিপ উৎপাদনে এত বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে যে, এর বড় একটি অংশ এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।’
তিনি আরও জানান, যেহেতু চীনে তৈরি চিপগুলো শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে না, তাই এসএমআইসি বা হুয়াওয়ের তৈরি চিপগুলিও শুল্কের আওতায় পড়বে। তবে এসব চিপ সাধারণত চীনে তৈরি ডিভাইসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে আমদানি হয়।
চোরজেম্পা বলেন, ‘এই শুল্ক যদি শুধুমাত্র চিপের ওপরই আরোপ করা হয়, এবং যন্ত্রাংশের ওপর না হয়, তাহলে এর প্রভাব খুব একটা বড় নাও হতে পারে।’
চিপ উৎপাদনকারী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, যা তাদের বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
ইইউ জানিয়েছে, তারা তাদের বেশিরভাগ রপ্তানি পণ্যের (যেমন গাড়ি, চিপ এবং ওষুধ) জন্য একক ১৫% শুল্কে সম্মত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের চেয়ে কোনো দেশকে চিপে বেশি সুবিধা দেবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে—যার মানে সম্ভাব্য শুল্ক হার ১৫% হতে পারে।