পনের বছরের বেশি সময় ধরে দ্বিস্তর বিশিষ্ট টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ক্রিকেটের শক্তিশালী দেশগুলো চায়, টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোকে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে দুই ভাগে বিভক্ত করে ম্যাচ আয়োজনের। একই ডিভিশনে থাকা দলগুলো একে অন্যের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় ধাপ থেকে প্রথম ধাপে উন্নতি এবং প্রথম ধাপ থেকে দ্বিতীয় ধাপে অবনমনেরও ব্যবস্থা থাকবে।
এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মত এই নীতির বিপক্ষেই আছে। কারণ, এতে ছোট দলগুলো বড় দলের বিপক্ষে খেলা থেকে বঞ্চিত হবে। টেস্ট ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে না। তবে ভিন্ন এক কারণে দ্বিস্তর বিশিষ্ট টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের সঙ্গে একই ডিভিশনে থাকবে ইংল্যান্ড, তবে একইসঙ্গে দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাওয়ার শঙ্কাও থাকবে।
গত মাসে আইসিসি একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে আছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টোউস। এই গ্রুপের দায়িত্ব হলো ২০২৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হতে যাওয়া পরবর্তী বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রকে কীভাবে উন্নত করা যায়- সেটা খতিয়ে দেখা। গত জুলাইয়ে আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে এই দুই-স্তরের প্রস্তাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে রজার টোউস এই বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করবেন।
এদিকে গত সপ্তাহে ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যে ওভাল টেস্টের প্রথম দিনে বিবিসির ‘টেস্ট ম্যাচ স্পেশাল’ অনুষ্ঠানে ইসিবি চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন বলেন, ‘ক্রিকেটের ঠাসা সূচি আর অসংখ্য টি-টোয়েন্টি লিগের কারণে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেটের মূল্য কমে যাচ্ছে। বেশিরভাগ দেশেই টেস্ট ক্রিকেট বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দ্বিস্তর বিশিষ্ট টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। তবে সেটি নিখুঁত কিনা, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে।’
বিষয়টি ব্যখ্যা করে থম্পসন বলেন, ‘ধরুন ইংল্যান্ড দল হিসেবে যদি খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যায়, তাহলে কী হবে? তখন আমরা দ্বিতীয় স্তরে নেমে যাব এবং অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে আর খেলতে পারবো না! এটা তো হতে পারে না। এখানে সাধারণ বোধের জায়গা থেকে চিন্তা করতে হবে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা শিরোপা জিতেছে। যদি এটাকে আরও উন্নত করা যায়, তাহলে হয়তো দুই-স্তরের টেস্ট ক্রিকেটের প্রয়োজন হবে না। তবে সূচি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে লাল বল এবং সাদা বলের ক্রিকেটের ভারসাম্য থাকে।’
দুই-স্তরের টেস্ট মডেল নিয়ে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলো বরাবরই বিভক্ত। কেউ কেউ আশঙ্কা করে যে রেলিগেশন হলে আইসিসি থেকে পাওয়া বাৎসরিক অর্থ কমে যাবে। কেউ সরাসরি নিচের স্তরে যেতে চায় না, কেউ শুধু সম্মানহানির ভয়ে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এদিকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষ দেশগুলোর দায়িত্ব হলো অন্য দলগুলোকে সাহায্য করা, যাতে তারাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে শক্তিশালী দেখতে চাই।’