সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ‘নিরস্ত্র’ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলোর অনুমোদন করেছে লেবাননের মন্ত্রিসভা। যদিও গোষ্ঠীটি এর আগেই এসব দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই দাবির পেছনে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ায় মন্ত্রিসভার এমন তড়িঘড়ি। খবর আল জাজিরা
বৃহস্পতিবারের বৈঠক শেষে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম জানান, ‘মন্ত্রিসভা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার লক্ষ্যসমূহ অনুমোদন করেছে, যার উদ্দেশ্য হল শুধু রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র থাকার নিশ্চয়তা দেওয়া।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মন্ত্রিসভা বছরের শেষ নাগাদ হিজবোল্লাহকে নিরস্ত্র করার এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের লক্ষ্যে গৃহীত মার্কিন প্রস্তাবের উদ্দেশ্য সমর্থন করলেও, এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হয়নি।’
এই সিদ্ধান্ত জাতির অপমান: হিজবুল্লাহ
এদিকে মন্ত্রিসভার এমন সিদ্ধান্তকে ‘অপমানের পদযাত্রা’ বলে মন্তব্য করেছে হিজবোল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের উপপ্রধান মাহমুদ কোমাতি। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
আল জাজিরাকে কোমাতি বলেন, ‘বিশ্বে এমন কোনো রাষ্ট্র নেই, যারা নিজ ভূমিতে প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, যখন শত্রু প্রতিদিন তাদের জমি দখল করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী হিজবোল্লাহ আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে।’
মন্ত্রিসভার ভেতরে বিভক্তি
দুই দিন আগেই লেবাননের মন্ত্রীরা ঘোষণা দিয়েছিলেন, শুধু ছয়টি সরকারি বাহিনীর হাতেই অস্ত্র সীমাবদ্ধ রাখা হবে। এর ফলে হিজবোল্লাহর অস্ত্রধারণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। হিজবোল্লাহর পার্লামেন্টারি ব্লক এই পদক্ষেপকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মেনে নেওয়া’ এবং ইসরায়েলের স্বার্থে কাজ করা বলে অভিযোগ তোলে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় হিজবোল্লাহ ও তাদের শিয়া মিত্ররা মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে বেরিয়ে যান।
প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানায়, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মার্কিন দূত টম ব্যারাকের চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি লেবানন সরকারকে একটি নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার বিস্তারিত সময়সূচি উপস্থাপন করেন।
এতে বলা হয়, লেবাননের সেনাবাহিনী একটি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হিজবোল্লাহর অস্ত্র প্রত্যাহার করবে। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে দখলে রাখা পাঁচটি অবস্থান থেকে সরে যাবে এবং আগ্রাসন বন্ধ করবে।
বৃহস্পতিবার বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা লেবাননের সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিকভাবে স্বাগত’ জানায় এবং লেবানন সেনাবাহিনীকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব দেওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।