কেনিয়ায় বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, নিহত ৬

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির কাছে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স (মেডিকেল প্লেন) আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৬ জন নিহত এবং ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১৭ মিনিটে নাইরোবির উইলসন এয়ারপোর্ট থেকে যাত্রা শুরু করে বিমানটি। গন্তব্য ছিল সোমালিল্যান্ড। কিন্তু বিকাল ৩টার কিছু পরেই এটি কিয়াম্বু কাউন্টির রুইরু এলাকায় বিধ্বস্ত হয়।

কিয়াম্বু কাউন্টি কমিশনার হেনরি ওয়াফুলা জানান, ‘আমরা পাইলটসহ ৪ জনকে হারিয়েছি … সব আরোহীই নিহত হয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, ‘বিমানটি একটি ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে এবং ওই বাড়ির দুই বাসিন্দাও নিহত হন। এছাড়া আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।’

দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত এএফপি সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকদের তোলা ছবিতে দেখা গেছে, ঘটনার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। কেনিয়া রেড ক্রস ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়।

স্থানীয় বাসিন্দা তাশা ওয়াঞ্জিরা বলেন, ‘বিমানটি আকাশেই আগুন ধরে যায়, এরপরই দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আসে।’

আরেক বাসিন্দা আইরিন ওয়ানগুই বলেন, ‘বিমানটি আমাদের ভবনের পাশ দিয়ে কাঁপাতে কাঁপাতে উড়ে যায়। পরে যখন বিধ্বস্ত হয়, তখন চারপাশে শুধু দেহের অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।’

মার্গারেট ওয়াইরিমু, যার বাড়িটি ধ্বংস হয়ে গেছে, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি সব কিছু হারিয়েছি। আল্লাহর শুকরিয়া, আমার বাচ্চারা বাড়িতে ছিল না।’

দুর্ঘটনার শিকার বিমানটি সেশনা সাইটেশন এক্সএলএস মডেলের এবং এটি পরিচালনা করছিল এমরেফ ফ্লাইং ডক্টরস নামের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান।

সংস্থাটির সিইও স্টিফেন গিতাউ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ আমাদের একটি বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।’

এমরেএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান চলছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এমরেফ ফ্লাইং ডক্টরস মূলত পূর্ব আফ্রিকায় জরুরি মেডিকেল সেবা প্রদানে কাজ করে থাকে। এর সদর দফতর নাইরোবিতে।