আর্মেনিয়া-আজারবাইজানের সংঘাত অবসানে শান্তিচুক্তি ঘোষণা করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প

আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে চলমান দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তির ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন বলে সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (৯ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ এবং আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান-এর সঙ্গে এক যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তারা ওভাল অফিস ও স্টেট ডাইনিং রুমে বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেবেন।

দুটি সূত্রের বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, আর্মেনিয়া একটি ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রানজিট করিডোর উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অধিকার দিতে যাচ্ছে, যার নাম রাখা হবে ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রস্পেরিটি’।

এই করিডর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘোষণার আগে, গত মাসে আবু ধাবিতে আলিয়েভ ও পাশিনিয়ান-এর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তারা সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার পাশাপাশি আস্থা-বর্ধক পদক্ষেপ গ্রহণে একমত হন।

ট্রাম্পও গত মাসে নেটো মহাসচিব মার্ক রুটে-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বলেছিলেন, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে শান্তিচুক্তির প্রচেষ্টা ‘সফল সমাপ্তির পথে’ অগ্রসর হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সংঘাতের শুর ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর। ওই বছর আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত কারাবাখ অঞ্চল ও আশপাশের সাতটি জেলা অধিকৃত করে নেয়।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৪৪ দিনের যুদ্ধে আজারবাইজান ওই অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা মুক্ত করে নেয়। রাশিয়া-প্রযুক্ত একটি শান্তিচুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং উভয় দেশের মধ্যে সীমা নির্ধারণ ও সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ আলোচনা শুরু হয়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে আজারবাইজান কারাবাখে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে, যখন অঞ্চলটির বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।

চলতি বছরের মার্চে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া ঘোষণা করে, তারা শান্তিচুক্তির ১৭টি অনুচ্ছেদে সম্মত হয়েছে। তবে এখনো তা চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি।