গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
এইচআরএসএস জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ২৮৪ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
শুক্রবার এইচআরএসএস'র নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর ভিডিও ধারণ করছিলেন, যা তার পেশাগত দায়িত্বের অংশ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সেই মুহূর্তেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
এই ঘটনা শুধু একটি মানবজীবনের করুণ পরিণতি নয়, এটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হামলা।
বিবৃতিতে বলা হয়, এটি প্রমাণ করে, দেশে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের দুঃসাহস কতটা বেড়ে গেছে এবং তারা আইন ও প্রশাসনের ভয় না করে প্রকাশ্যে অপরাধ সংঘটনে উৎসাহিত হচ্ছে।
এইচআরএসএস'র তথ্য মতে, গত সাত মাসে (জানুয়ারি থেকে জুলাই) কমপক্ষে ১৬৯ টি হামলার ঘটনায় ২৮৪ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্ততপক্ষে ১২৬ জন, লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ২৫ জন, হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন ৩৯ জন ও গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ জন সাংবাদিক।
এছাড়াও ২৪ টি মামলায় ৯৪ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই সময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর অধীনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এইচআরএসএস'র বিবৃতিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে। শুধু ‘সাময়িক গ্রেপ্তার’ বা ‘চোখে ধুলো দেওয়া’ নয়, প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি। যেন ভবিষ্যতে কেউ আর সাংবাদিকদের ওপর আঘাত করার সাহস না পায়।
পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা আবশ্যক উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা চর্চা করার পরিবেশ না থাকলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।