রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আগামী ১৫ আগস্ট আলাস্কায় বৈঠক করবেন বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘোষণা দেন তিনি, যা পরে ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সান্নিধ্যে থাকার জন্য আলাস্কা একটি যথাযথ স্থান।’
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই হোয়াইট হাউজে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
যুদ্ধ থামাতে তার মাসব্যাপী প্রচেষ্টায় কী অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি ট্রাম্প। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেকোনো শান্তিচুক্তির মূল অংশ হবে কিছু ভূখণ্ড ফেরত দেওয়া এবং কিছু অদলবদল। তিনি জানান, যুদ্ধ শেষ করতে ইউক্রেনকে কিছু এলাকা ছাড় দিতে হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছি। রাশিয়া থেকেই শুরু করবো।’
ট্রাম্প বলেন, ‘এটা খুবই জটিল। তবে আমরা কিছু ফিরে পাবো, কিছু পরিবর্তন হবে। কিছু এলাকা অদলবদল হবে—যা উভয় পক্ষের জন্যই উপকারী হবে। এই বিষয়ে হয় আজকেই, না হয় আগামীকাল বিস্তারিত আলোচনা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর শুরু হওয়া যুদ্ধে এখনো সমাধান আসেনি।
তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা সম্ভবত ইউক্রেনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড ত্যাগ করার দাবি তুলতে পারে।
এই বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানায়, হোয়াইট হাউস ইউরোপীয় নেতাদের একটি চুক্তিতে রাজি করানোর চেষ্টা করছে, যেখানে রাশিয়া পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল এবং ক্রিমিয়া নিজের দখলে রাখবে। অন্যদিকে, খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চল—যার কিছু অংশ রাশিয়া দখলে রেখেছে, তা ছেড়ে দিতে পারে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, মস্কোতে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ-এর সঙ্গে বৈঠকে পুতিন অনুরূপ একটি প্রস্তাব দিয়েছেন।
তবে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা এমন কোনো চুক্তি মেনে নেবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। কারণ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার শর্তকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।
একজন সিনিয়র হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তা সিবিএসকে জানান, বৈঠকের পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত নয় এবং প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এতে যুক্ত হতে পারেন।
মস্কো এখনও যুদ্ধজয়ের জন্য কোনো নির্ধারক অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি, তবে তারা ইউক্রেনের প্রায় ২০% অঞ্চল দখলে রেখেছে। অপরদিকে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা আক্রমণও রুশ সেনাদের পেছনে ঠেলতে পারেনি।