যারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায় তারা গণতন্ত্রের শত্রু: শাহ আলম

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম বলেছেন, যারা নির্বাচন বিলম্ব করতে চায়, যারা পিআর-এর নামে, সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের নামে, গণভোটের নামে নির্বাচন দীর্ঘায়িত করতে চায় তারাই হলো বর্তমানে গণতন্ত্রের শত্রু। শনিবার বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কমিউনিস্ট পার্টির জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 

মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৪-২৪ পর্যন্ত মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারে নাই। এই যে লড়াই হলো জুলাই-আগস্টে এটা কিসের লড়াই? এটা মানুষের ভোটাধিকারের লড়াই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার লড়াই। ৫ আগস্ট পর্যন্ত এ দেশের শত্রু ছিল হাসিনা সরকার আর ৫ আগস্টের পর শত্রু হলো যারা দেশ, বন্দর খেয়ে ফেলতে চায়, করিডর দিতে চায়, স্টারলিংকের সাথে লিংক আপ করেছে তারাই গণতন্ত্রের শত্রু। 

তিনি বলেন, ভারতে ২০ কোটির উপরে মুসলমান রয়েছে। আমাদের এখানে দুই কোটির উপরে হিন্দু এবং আদিবাসী আছে। ভারতে হিন্দু রাজত্ব করতে চায় মোদি-আরএসএস। আর এখানে ধর্মীয় রাষ্ট্র করতে চায়। ভারতের ২০ কোটি মুসলমান কি কোনদিন রামরাজ্য মেনে নেবে? আর বাংলাদেশে ২ কোটি হিন্দু আদিবাসী কোনদিন ইসলামী শাসন মেনে নেবে না। আজকে যারা ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করছে এর মধ্য দিয়ে মানুষের কোনো মুক্তি নাই। 

তিনি বলেন, আমেরিকা-ইসরায়েল গাজাকে কবরস্থান বানিয়ে ফেলেছে। কিন্তু গাজার পক্ষে প্যালেস্টাইনের পক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী যে মিটিং করল সেখানে একটি কথাও বলে নাই। আর ড. ইউনূসের পার্টি এনসিপি গাজার পক্ষে কথা বলছে না। প্যালেস্টাইনের পক্ষে কথা বলছে না। তাই এদের ইসলামের নমুনা বুঝেন। 

মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি স্বৈরাচারী সরকারকে উচ্ছেদ করতে সফল হয়েছে এ দেশের জনগণ। আওয়ামী দুঃশাসনকে পরাজিত করেছে দেশের জনগণ। কিন্তু এখনো আহতরা সুচিকিৎসা পাচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকার এখনও শহীদদের প্রকৃত তালিকা করতে পারেনি। 

এর আগে দুপুর থেকেই দুর্গাপুর উপজেলার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। এ সময় উপজেলা কমিটির সভাপতি কমরেড আলকাছ উদ্দিন মীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ। জনসভা শেষে একটি র‌্যালি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেস ক্লাব মোড়ে এসে শেষ হয়।