সন্তু লারমা বললেন

আদিবাসীদের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চয়তায়

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বলেছেন, ‘ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে চলমান সংস্কার কার্যক্রমে আদিবাসীদের কার্যকর কোনো সংগঠন বা নেতৃত্বের সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়নি। আদিবাসীদের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চয়তা ও শঙ্কায় পূর্ণ।’

গতকাল শনিবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্থক প্রয়োগ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের সমাবেশে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত না থাকলেও তার পাঠানো লিখিত বক্তব্য পাঠান করেন পল্লক চাকমা। আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয়, ভূমি কমিশন গঠনসহ সাতটি দাবি তুলে ধরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম।

পাঠানো লিখিত বক্তব্যে সন্তু লারমা বলেন, ‘বাংলাদেশের পাহাড় ও সমতলের অধিকাংশ জনগণ এখনো অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে দিন যাপন করছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া দেশে তারা ক্রমেই ভূমিহীন ও দেশান্তরী হচ্ছেন।’

পাহাড়ের আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ২৮ বছরেও এই রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করছে না। ফলে পাহাড়ে বিদ্যমান সমস্যার নানা রূপ প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সমতলের আদিবাসীদের পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক। ভূমি থেকে উচ্ছেদ, নারী নিপীড়ন, বৈষম্য, বিচারহীনতাÑ এসবের মাধ্যমে প্রান্তিক থেকে আরও প্রান্তিক হচ্ছেন আদিবাসী জনগণ। এ সময় আদিবাসী জনগণের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম জোরদারকরণে প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাধারার নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।