আজ আরেকটি ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ঢের এগিয়ে। ফুটবল সংস্কৃতিতেও বাংলাদেশের তুলনায় তারা এগিয়ে অনেকটা। তারপরও এই বাংলাদেশের কোরিয়াকে ভয় পাওয়ার কথা নয়। অন্তত আজ নিশ্চয় তার চাইবে ভয়ডরহীন ফুটবল খেলে নারী অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বের টিকিট পেতে।

বাছাইয়ের এইচ গ্রুপে আজই শেষ ম্যাচ ডে। সেরার লড়াইয়ে টিকে আছে কেবল বাংলাদেশ ও কোরিয়া। প্রথম দুটি করে ম্যাচ জয়ে দু'দলের সংগ্রেহে সমান ছয় পয়েন্ট। তবে বাংলাদেশ এখন গ্রুপের শীর্ষে আছে আগের দুই ম্যাচে বেশি গোল করার সুবাদে। দুই ম্যাচে বাংলাদেশ করেছে ১১ গোল। হজম করেছে একটি। অন্যদিকে কোনো গোল হজম না করলেও কোরিয়া করেছে এক গোল কম। যে কারণে গোল গড় সমান হওয়া সত্ত্বেও বেশি গোলের কারণে বাংলাদেশ মাঠে নামবে বাড়তি সুবিধা নিয়ে। অর্থাৎ ম্যাচ ড্র হলে বাংলাদেশ গ্রুপ সেরা হয়ে পাবে আগামী বছর থাইল্যান্ডে হতে যাওয়া মূল পর্বের টিকিট।

কোরিয়ার বিপক্ষে জয়ের আশা করা নিয়ে হয়তো ক’দিন আগ পর্যন্ত শুনতে হতো তির্যক কথা। তবে ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের ছোঁয়ায় যে ব্র্যান্ডের ফুটবল খেলছে বাংলাদেশ তাতে এখন সে আশা করাই যায়। তাছাড়া শুক্রবার স্বাগতিক লাওসের বিপক্ষে কোরিয়াকে ভুগতে দেখে আফঈদারা জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা মেলানো সহজ। প্রথম লক্ষ্য থাকবে নিজেদের ঘর সামলনো। সেটা খুব কঠিন কাজ যে নয় তা তো লাওসই দেখিয়ে দিয়েছে। কোরিয়ার মুহুর্মুহু আক্রমণ রুখে দিয়ে স্বাগতিকরা এক সময় এক পয়েন্ট প্রায় সম্ভব করে ফেলেছিল। ৮৩ মিনিট পর্যন্ত কোরিয়াকে গোল করতে দেয়নি লাওস। আফঈদা, জয়নব বিবি রিতা, নবীরণ খাতুনরা সেই কাজটা নিশ্চয় লাওসের চেয়ে ভালো করার যোগ্যতা রাখে। এখানে সুবিধে হচ্ছে, কোরিয়াকে লাওসের ম্যাচের মতো কেবল গোল বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলে চলবে না। বাংলাদেশের শক্ত আক্রমণভাগকে রুখতে তাদের রক্ষণভাগকেও থাকতে হবে সদা সজাগ। নইলে সাগরিকা, তৃষ্ণা রানী, স্বপ্না রানী, শান্তি মার্ডি, মুনকি আক্তাররা সুযোগ পেলেই গাঁথবে চাইবেন গোলের মালা।

কোরিয়াকে জয় বঞ্চিত রাখা কিংবা হারানো যেমন বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের। একই সঙ্গে কোরিয়াকেও ভাবতে হবে এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশকে রোখার। আট গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচ ডে শেষে সেরা তিন রানার্স-আপ হওয়ার দৌড়ে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে জি গ্রুপের জর্ডান, এইচ গ্রুপের কোরিয়া ও সি গ্রুপের চীনা তাইপে। এছাড়া ইরান ও লেবাননও আছে রেসে। বাংলাদেশ গ্রুপের শীর্ষে থাকলেও এই হিসাবটা মাথায় রাখতে হচ্ছে তাদেরও।

আগের দুই ম্যাচ, তারও আগের সাফের আসরে বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছে, তাতে আশা করা যায় বাংলাদেশ আজ হারবে না। ড্র যদি হয়, তবে বেশি গোল করার সুবাদে লাল-সবুজরা হবে গ্রুপ সেরা। আর যদি হেরেও যায়, তারপরও সেরা তিন রানার্স-আপের একটি হয়ে মূল পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সেক্ষেত্রে হারের ব্যবধানটা ন্যূনতম রাখার দিকেও মনোযোগী হতে হবে বাটলারের শিষ্যদের।

পরপর ম্যাচ থাকায় শনিবার বাংলাদেশের ফুটবলাররা রিকভারিতে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। সকালে স্ট্রেচিং, জিম ও পুল সেশনে অংশ নেন ফুটবলাররা। আজ লাওসের ভিয়েনতিয়েনের লাও ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইটা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায়।