‘গামিনি ক্রিকেটারদের অপমান করত, মাঠকর্মীদের মানুষই মনে করত না!’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সম্ভবত শেষ হতে যাচ্ছে গামিনি ডি সিলভার যুগ। ‘সম্ভবত’ বলার কারণ হলো, নতুন কিউরেটর অস্ট্রেলিয়ার টনি হেমিং আসার পরও বিসিবি গামিনির ব্যাপারে অফিসিয়ালি কিছু জানায়নি। যদিও টনি হেমিংকে গামিনিসহ বাকি কিউরেটরদের ‘বস’ হিসেবেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে গত এক যুগের বেশি সময় ধরে মিরপুরে গামিনির রাজত্ব।

বছরের পর বছর ধরে বিসিবির ক্ষমতাধর পরিচালক মাহবুব আনামের ছায়াতলে ছিলেন গামিনি। মিরপুরের পিচ নিয়ে অবিরাম সমালোচনা হলেও গামিনিকে বিসিবির কোনো আমলেই সরানো যায়নি। হেমিংয়ের সঙ্গে এবার দুই বছরের চুক্তি হয়েছে বিসিবির। বিসিবির পিচ দেখা-শোনার পাশাপাশি বিসিবির সব কিউরেটরদের শেখাবেন তিনি। তার পদের নাম ‘হেড অফ টার্ফ ম্যানেজমেন্টে।’ এর আগেই অবশ্য ছুটিতে শ্রীলঙ্কায় চলে গেছেন গামিনি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কান সিন্ডিকেট নতুন কিছু নয়। এই সিন্ডিকেটের এতই ক্ষমতা যে, তারা ইচ্ছেমতো চলতেন। গামিনির ক্ষমতার একটা উদাহরণ পাওয়া যায় সাবেক ওপেনার ইমরুল কায়েসের বক্তব্যে, ‘গামিনি নিজেকে এত বেশি ক্ষমতাবান ভাবত, খেলোয়াড়দের সাথে দুর্ব্যবহার করত। গ্রাউন্ডসম্যানদের কথা বাদই দিলাম, তাদেরকে তো মনে হয় মানুষই ভাবত না। আমার কাছে এটা খুবই খারাপ লাগত। মিরপুরে যখন আসতাম, খেলোয়াড়দের সাথে ওর মনোভাব, কথাবার্তা দেখতাম আমার কাছে খুবই কষ্ট লাগত একটা গ্রাউন্ডসম্যানের সাথে কী দুর্ব্যবহার করে! এইজন্য আমার মনে হচ্ছে এই মানুষগুলো এখানে বেশিদিন থাকা ঠিক না।’

একটি ক্রিকেট বিষয়ক পোর্টালকে ইমরুল আরও বলেন, ‘দুঃখজনক না, আমি মনে করি খেলোয়াড়দের জন্য এটা অপমান। খেলোয়াড়রা অপমানিত হয়। একজন টেস্ট ক্রিকেটারকে যখন কিউরেটর অনুশীলন করতে না দিয়ে বের করে দেয় সেটা অপমানের ব্যাপার। এরকম কালচার নেই আমাদের। একজন টেস্ট ক্রিকেটারকে অসম্মান করা মানে পুরো জাতিকে অসম্মান করা। ওই সংস্কৃতি এখনো আমাদের গড়ে ওঠেনি। যেদিন গড়ে উঠবে, সেদিন দেখবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অনেক উপরে উঠে গেছে।

এদিকে গতকাল শনিবার বোর্ড সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার মিঠু গামিনির ভবিষ্যত নিয়ে বলেছেন, ‘সময় বলবে গামিনি থাকবেন কি না। আপাতত তার এক বছরের চুক্তি আরও বাড়ানো হয়েছে। তবে দুই মাসের টার্মিনেশন নোটিশ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং পরিস্থিতি যেকোনো সময় বদলাতে পারে। হেমিংয়ের সঙ্গে আমাদের দুই বছরের চুক্তি হয়েছে। তিনি পিচের মান উন্নয়নের পাশাপাশি বিসিবির কিউরেটরদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন।’