হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট কনভেনশন ২০২৫’-এ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ২০০ এরও বেশি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবী, নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য গবেষক, ক্লিনিকাল ও নন-ক্লিনিকাল শিক্ষার্থী, উন্নয়ন সহযোগী এবং সেবা প্রদানকারীরা একত্রিত হন।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিলো “স্বাস্থ্যসেবার রূপান্তরে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা”। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ও ইনস্টিটিউট ফর হেলথকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট এর উদ্যোগে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অংশীদারত্বে আয়োজিত এই কনভেনশনটি ছিল জাতীয় পর্যায়ে একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
কনভেনশনের সভাপতি ছিলেন প্রফেসর ড. আবু জাফর, মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. সায়েদুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য), বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সরোয়ার বারী, সচিব, চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; এবং মো. সাইদুর রহমান, সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো, লাইন ডিরেক্টর, হাসপাতাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যসেবার রূপান্তরে বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, “মান কোনো গন্তব্য নয়; এটি একটি দৈনন্দিন শৃঙ্খলা। এই কনভেনশন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা এখন সময়ের দাবি এবং এটি এই দেশে সেবা প্রদানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত।”
স্বাস্থ্য খাতে চলমান পরিবর্তন নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (ডিজিএফপি) এর মহাপরিচালক ডা. আশরাফি আহমাদ বলেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন মধ্যবয়স অতিক্রম করেছে, অথচ আমরা এখনও সম্পূর্ণভাবে কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট কার্যকর করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মান শুরু হয় শক্তিশালী নেতৃত্ব দিয়ে, এরপর আসে অনুপ্রেরণা। আমাদের স্বাস্থ্য খাত এখন বিশাল এক রূপান্তরের পথে, প্রকল্পভিত্তিক ধারা থেকে বেরিয়ে আসছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় আমরা আশা করছি, এই ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে।”
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল কীনোট প্রেজেন্টেশন, প্যানেল আলোচনা, ব্রেকআউট সেশন এবং ১৫ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর পোস্টার উপস্থাপনা, যেখানে তারা তাদের স্বাস্থ্য সেবায়র গুণগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে যেসব উদ্ভাবনী ধারণা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন সেগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্যানেল আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিলো- জাতীয় কোয়ালিটি ফ্রেমওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবার উদ্ভাবন, রোগী নিরাপত্তা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, স্বাস্থ্য অর্থায়ন, এবং মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবকাঠামোর ভূমিকা।
ব্রেকআউট সেশনগুলোতে গুরুত্ব পায় ডিজিটাল হেলথ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক মানোন্নয়ন, মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ এবং আরবান স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রাধিকারমূলক প্রোগ্রামের মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পদ্ধতি, সরঞ্জাম ও কৌশল বিষয়ক আলোচনা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মোট ১১ জনকে কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট চ্যাম্পিয়ন হিসাবে সম্মাননা প্রদান করা হয় স্বাস্থ্যসেবায় মানোন্নয়নের পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করার স্বীকৃতি স্বরূপ ।