বিশ্ব চলচ্চিত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত শাকিবের

দেশীয় চলচ্চিত্রে প্রায় দুই দশক ধরে এককভাবে রাজত্ব করে নিজেকে মেগাস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। বারবার খাদের কিনারা থেকে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে জিইয়ে রাখছেন ঢালিউড কিং খ্যাত এই তারকা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তিনি। তবে সেখানে কেবল তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন- তা কিন্তু নয়, বরং সেখান থেকেও ভিন্নধর্মী এক প্রয়াসের আভাস দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেসবুকে শাকিব খান দেশে ফিরে চমক দেখানোর কথা উল্লেখ করলেও বিস্তরিত কিছু বলেননি। তবে ‘বরবাদ’ নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয়ের কাছ থেকে জানা গেছে, শাকিব খানকে নিয়ে এমন একটা প্রজেক্ট তৈরি হচ্ছে, যা এর আগে ঢালিউড কিংবা বলিউডে তো নয়ই, গোটা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও এমনটি ঘটেনি।

নির্মাতা মেহেদী হাসান হৃদয় জানান, ঢালিউড সুপারস্টারকে নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি সিনেমার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন তিনি, যা নির্মিত হবে তিনটি সিক্যুয়ালে। বর্তমানে চলছে চিত্রনাট্য লেখার কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কোনো ঈদে শাকিব খান অভিনীত একটি সিনেমার তিনটি সিক্যুয়াল মুক্তি পাবে একসঙ্গে।

হৃদয়ের ভাষায়, ‘শাকিব ভাইকে নিয়ে সামনে আমরা বড় ক্যানভাসে একটি সিনেমা করতে যাচ্ছি। এখন সেটির চিত্রনাট্য লেখার কাজ চলছে। সিনেমাটি যেহেতু বড় প্রজেক্ট, তিন পার্টে মুক্তি পাবে। এমন প্রজেক্টের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সময় লাগবে আমাদের। তারপরই এ বিষয়ে ঘোষণা দেব।’ হৃদয় আরও বলেন, ‘শাকিব ভাইকে নিয়ে নতুন সিনেমাটি এমন নয় যে, এক পার্ট মুক্তি পেল প্রথমে, তারপর আসবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তি! এটা আমরা একসঙ্গেই মুক্তি দেব। এমনকি তিন অংশের শুটিংও টানা শেষ করে ফেলব।’

হৃদয় জানান, নতুন সিনেমার গল্পটি বেশ মনে ধরেছে শাকিব খানের। নতুন সিনেমাটির ইঙ্গিত কিন্তু শাকিব ভাই আমার ‘বরবাদ’ সিনেমার প্রিমিয়ারেও দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, আগামীতে বড় কিছু আসছে। আমরা এরই মধ্যে শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে কথা বলেছি, তিনিও রাজি হয়েছেন।

অন্যদিকে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শাকিব খান বলেন, চলচ্চিত্রের মন্দাভাব পরিবর্তন করা দরকার। আমার একা বা আমার মতো গুটিকয়েক অভিনয়শিল্পী দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। ভালো ভালো গল্প তৈরির পাশাপাশি ও মেধাবী নির্মাতাদের এগিয়ে আসা দরকার। নতুন নতুন দক্ষ অভিনয়শিল্পী দরকার। এখন বিশ্বায়নের যুগ। আমাদের সিনেমা এখন বহির্বিশ্বে প্রদর্শিত হচ্ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র নির্মাণ খুব জরুরি এখন।