শেখ হাসিনা-জয়-পুতুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ৩ বাদী

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত জালিয়াতির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক তিন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

সোমবার (১১ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলার পৃথক তিন বাদীর সাক্ষ্য নেন।

বাদীরা হলেন—শেখ হাসিনাসহ ১২ আসামির মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন, পুতুলসহ ১৮ আসামির মামলার বাদী সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এবং জয়সহ ১৭ আসামির মামলার বাদী সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তারা বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃত্বের অপব্যবহার করেছেন। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তার ছেলে ও মেয়ে—সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুল—অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে এ বরাদ্দ কার্যকর করতে সহায়তা করেছেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ সুলতান মাহমুদ ও দেলোয়ার জাহান রুমি জানান, তিনটি মামলার প্রতিটিতে বাদীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামিরা পলাতক থাকায় তারা উপস্থিত ছিলেন না। সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ২৬ আগস্ট ধার্য হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই পৃথক ছয় মামলায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পরিবারের সাত সদস্যসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। আদালতের বিশেষ জজ-৫ শেখ হাসিনা পরিবারের তিন মামলার শুনানির জন্য ১১ আগস্ট এবং বিশেষ জজ-৪ শেখ রেহানা পরিবারের তিন মামলার জন্য ১৩ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলাগুলোর অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, মো. নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সজর ইঞ্জিনিয়ার সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান ও হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।

২০২৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ছয়টি প্লট বরাদ্দের অনিয়মের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনে ২০৩ নম্বর সড়কের আশপাশে শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার সন্তান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের নামে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ১০ কাঠার একটি প্লট (নম্বর ০০৯) ২০২২ সালের ৩ আগস্ট বরাদ্দ পান। জয় (প্লট ০১৫) একই বছরের ২৪ অক্টোবর বরাদ্দপত্র গ্রহণ করেন এবং ১০ নভেম্বর মালিকানা নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। পুতুল (প্লট ০১৭) ২ নভেম্বর বরাদ্দপত্র পান। রেহানা (প্লট ০১৩), রাদওয়ান (প্লট ০১১) ও আজমিনা (প্লট ০১৯) প্রত্যেকেই সমপরিমাণ জমির বরাদ্দ পান।

চলতি বছরের ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি এই ঘটনার পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ১৬৪, ৪০৯ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।