নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য ও এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিল্পপতি মরহুম আজিম উদ্দিন আহমেদের স্মরণে এক দোয়া ও শোকসভা আয়োজন করা হয়। রবিবার (১০ আগস্ট) বিকাল ৩টায় সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যবৃন্দ এবং মরহুমের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর মরহুম আজিম উদ্দিন আহমেদ-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনএসইউ-এর কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব খান। এরপর পর্যায়ক্রমে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা মরহুমকে স্মরণ করে বক্তব্য দেন। এসময় স্মৃতিচারণ করেন এনএসইউ-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর মুশতাক হাবিব এবং স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সের ডীন অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন।
এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান এম. এ কাশেম স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আজিম উদ্দিন আহমেদের প্রয়াণে আমরা তার পরিবারের মতোই শোকাহত। এনএসইউ প্রতিষ্ঠার অনেক আগে থেকেই তার সঙ্গে আমার পরিচয়। তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক, সৎ ব্যক্তি। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তার দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্ব এনএসইউ-কে একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের পক্ষ থেকে আরও স্মৃতিচারণ করেন সম্মানিত সদস্য মো. শাহজাহান; বেনজীর আহমেদ; রেহানা রহমান; ইয়াছমিন কামাল, এবং ফওজিয়া নাজ।
পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মরহুমের সুযোগ্য কন্যা ফারজানা আজিম কান্তা। তিনি বলেন, “আমার বাবা ছিলেন অসম্ভব বিনয়ী একজন মানুষ। তিনি ছিলেন উদার, সমাজের সকলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। এনএসইউ ছিলো তার সন্তানের মতো। আমাদের মতোই তিনি এনএসইউকে ভালোবাসতেন।”
এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, “মরহুম আজিম উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি। তিনি ছিলেন মহৎ হৃদয়ের মানুষ। তার সহপ্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে এনএসইউ’র জন্য তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। তার আদর্শ ও প্রচেষ্টাকে সামনে রেখে আমরা এনএসইউকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”
এনএসইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী মরহুমের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “তিনি ছিলেন মহৎ ও কোমল হৃদয়ের মানুষ। তার আচরণ ছিলো পরিশীলিত, তিনি যোগ্যদের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দিতেন। এনএসইউ’র উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষা বিস্তারে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন, যা পরবর্তী প্রজন্ম স্মরণ করবে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।