কিরন বলেন, 'পাঙ্গাস নয় মেয়েদের খাওয়ানো হয় রুই, ইলিশ, পাবদা'

লাওসে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের মেয়েদের শারীরিক সামর্থ্যে পিছিয়ে পড়াটা চোখে পড়েছিলো সবার। এ নিয়ে কথা রটেছিল, বাফুফের ডরমেটরিতে জাতীয় দলের নারী ফুটবলারদের খাওয়ানো হয় পাঙ্গাস মাছ। এ গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ। 

কিরণ বলেন, ‘পুষ্টিহীনতার কথায় আমি একমত হবো না। বাফুফের ডরমেটরিতে যে খাবার দেওয়া হয়, সেটা পুষ্টিবিদ দিয়ে ডায়েট চার্ট অনুযায়ী করা। অনেকেই বলেন যে, আমরা পাঙ্গাস মাছ খাই। এখানে একদিনও পাঙ্গাস মাছ খাওয়ানো হয় না। বেশিরভাগ সময় রুই মাছ থাকে। থাকে মুরগি, গরু, খাসি ও ডিম। ইলিশ ও পাবদা খেতে চাইলে দেওয়া হয়। প্রতিদিন তো এমন খাবারই দেওয়া হয়। কেন মিথ্যা নিউজ করা হয়। মেয়েরা যদি ঠিকমত খেতেই না পারে তাহলে তো শক্তি থাকবে না। ৯০ মিনিট খেলতেই পারবে না। ওরা তো ৯০ মিনিট একই ছন্দে খেলে। না খেয়ে খেলে? পাঙ্গাস মাছ খেয়ে খেলে? না, তাদের পুষ্টি আমরা নিশ্চিত করি। ছোটবেলা থেকে তাদের যে সমস্যা ছিল, সেটা তো আমরা কাটাতে পারবো না।’

লাওসে খাবার নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একেকটা দেশের খাবার একেক রকম। লাওসের খাবার তো মেয়েরা খেতে পারে না। বাঙ্গালি খাবার খেতে না পারার কারণে তারা দুর্বল হয়ে পড়ছিল।এজন্য আমি বাঙ্গালি রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার খাওয়ানোর কথা বলেছিলাম। পিটারের (হেডকোচ পিটার বাটলার) তো সেদ্ধ খাবার ভালো লাগবেই। এটা নিয়ে দ্বিধায় থাকার কিছু নেই।’

এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলা নিয়ে কিরণ বলেন, ‘আমাদের ওই লেভেলে যেতে একটু সময় লাগবে। কারণ এখনো অনেক কিছু করা বাকি। এর প্রমাণ পেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে। আমি পিটারকে বলেছি হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এটা আমার জন্য শিক্ষণীয় ম্যাচ। ওই ম্যাচ থেকে মেয়েরা শিখতে পেরেছে কোথায় উন্নতি করতে হবে। বড় এবং ভালো ফুটবলার হতে কী করতে হবে। একই ভাবে পিটারও দেখেছেন তার দলকে কোথায় উন্নতি করতে হবে। শুধু কোরিয়া নয়, চীন জাপান সবার সঙ্গেই এমন হবে। আমাদের ওই পর্যায়ে যেতে সময়। এ ধরনের টুর্নামেন্ট খেললে আমরা বড় দলের সঙ্গে খেলতে পারি। সেখানে আমরা নিজেদের তৈরি করতে পারি। এছাড়া বড় দলগুলো তো আমাদের বিপক্ষে খেলবে না। কেন খেলবে আমরা তো ছোট দলের বিপক্ষে খেলি না।