যশোরে ১২৪টি সোনা বার চোরাচালান মামলায় শাহ আলম নামে এক আসামিকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর আসামি খালাস এবং ওই সোনার দাবিদার এক ব্যক্তিকে জাল কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপনের দায়ে তাকে আটকের আদেশ দেন বিচারক। একই সাথে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) যশোরের স্পেশাল ট্রাইবুন্যাল-১ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শেখ নাজমুল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি ওই স্বর্ণের মালিকানা দাবি করে জাল কাগজপত্র আদালতে দাখিল করায় মো. ওবাইদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুর আলম পান্নু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি শাহ আলম চৌগাছা উপজেলার বড় কাবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা। অপরদিকে খালাস পাওয়া আসামি রিপনুজ্জামান রিপন একই উপজেলার উজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২০ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা চৌগাছা উপজেলার বড় কাবিলপুর গ্রামের শ্মশানঘাট এলাকা থেকে মোটরসাইকেল আরোহী শাহ আলমকে আটক করেন। এসময় তার শরীরে তল্লাশি চালিয়ে কোমরে বাঁধা কাপড়ের মধ্যে স্কসটেপ দিয়ে মোড়ানো ১২৪টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। যার ওজন ১৪ কেজি সাড়ে ৪শ গ্রাম। পরে এ ঘটনায় আটক শাহ আলমকে আসামি করে চৌগাছা থানায় মামলা করেন বিজিবি নায়েক মো. আবু রায়হান। পুলিশ মামলার তদন্তকালে প্রকাশ পায় যে, ওই সোনা চোরাচালানের সাথে চৌগাছা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের রিপনুজ্জামান রিপন জড়িত। এর প্রেক্ষিতে এজাহারভুক্ত আসামি শাহ আলম ও রিপনুজ্জামানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন চৌগাছা থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) ইয়াছিন আলম।
আসামি শাহ আলমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে উল্লিখিত সাজা প্রদান এবং আসামি রিপনুজ্জামান রিপনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাসের আদেশ দিয়েছেন বিচারক।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুর আলম পান্নু জানান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাজারপাড়া এলাকার মৃত ফয়জুল্লাহ মোল্লার ছেলে ওবাইদুল্লাহ উল্লিখিত ১২৪টি স্বর্ণের বারের মালিকানা দাবি করে আদালতে কিছু কাগজপত্র দাখিল করেন এবং সোনা নিজ জিম্মায় দেওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত কাগজপত্র জাল বলে প্রমাণিত হয় এবং তিনি আদালতের সাথে প্রতারণা করে স্বর্ণের মালিকানা দাবি করায় রায় ঘোষণার সময় তাকে আটকের আদেশ দেন বিচারক। পরে আদালতের আদেশে তাকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।