ঢাকার পল্লবী থানায় ১১ বছর আগে ইশতিয়াক হোসেন জনি নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। একই মামলায় অধস্তন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত সাবেক এএসআই মো. রাশেদুল হাসানের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অধস্তন আদালতে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের সোর্স রাসেলকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট। এ তিন আসামির করা আপিলের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে। গত রবিবার থেকে রায় পড়া শুরু হয়।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১১ নম্বর সেক্টরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করলে জনি ও তার ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি প্রতিবাদ করেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে পল্লবী থানায় নিয়ে যায়। হেফাজতে নির্যাতনের ফলে জনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি মারা যান। ওই বছরের ৭ আগস্ট জনির ছোট ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন, ২০১৩-এর অধীনে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত তদন্তের নির্দেশ দেয়।
২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত পল্লবী থানার তৎকালীন এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই মো. রাশেদুল হাসান ও এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় এবং তাদের প্রত্যেককে জনির পরিবারকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়। এ ছাড়া পুলিশের সোর্স সুমন ও রাসেলকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এটি ছিল নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে প্রথম মামলা ও রায়। মামলাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় দেশ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।
অধস্তন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জাহিদ, রাশেদুল ও রাসেল হাইকোর্টে আপিল করেন। ৯ জুলাই শুনানি শুরু হয়ে ৭ আগস্ট শেষ হয় এবং ১০ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য হয়। আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও মো. সরওয়ার আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদার। বাদীপক্ষে ব্লাস্টের উদ্যোগে শুনানি করেন আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম। তিনি জানান, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কামরুজ্জামান মামলার শুরু থেকে পলাতক, তাই তিনি আপিল করতে পারেননি। সুমন সাত বছরের সাজা শেষ করে মুক্তি পেয়েছেন।