২৯ বছর বয়সেই পুরান কেনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ছে, কারণ খুঁজতে হবে: ব্রায়ান লারা

দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অবশেষে দ্রুত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)। ক্যারিবীয় ক্রিকেটের রক্তক্ষরণ থামাতে অভিজ্ঞদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

গত সপ্তাহে ত্রিনিদাদে দুই দিনের এই জরুরি বৈঠকে অংশ নেন কিংবদন্তি স্যার ক্লাইভ লয়েড ও ব্রায়ান লারা, সঙ্গে ছিলেন সিডব্লিউআই কর্মকর্তারা। আলোচনায় আনা হয় দলকে ঘিরে বর্তমান সংকট ও সম্ভাব্য সমাধান। সব ফরম্যাটে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্তমান কোচ ড্যারেন স্যামির উপস্থাপনাকে প্রশংসা করেছেন স্যার ক্লাইভ লয়েড।

প্রাক্তন অধিনায়ক লারা জোর দিয়েছেন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর। তার মতে, বিশ্ব ক্রিকেটে বড় দলগুলো পারফরম্যান্স বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ডেটা অ্যানালিটিক্সকে কাজে লাগাচ্ছে, যেখানে ক্যারিবীয়রা পিছিয়ে আছে।

“আমরা এখন আর সমান অবস্থানে নেই। প্রযুক্তি ও বিশ্লেষণ এখন সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমাদের নতুন পথ খুঁজতে হবে,” বলেন লারা।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বৈঠকে উঠে এসেছে বেশ কিছু বড় সমস্যা—সংগঠনগত ঘাটতি, পর্যাপ্ত অনুশীলন সুবিধার অভাব, আঞ্চলিক ঘরোয়া ক্রিকেটের মান পতন, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও শক্তি বাড়াতে ঘাটতি, এবং সমন্বিত হাই-পারফরম্যান্স সেন্টারের অভাব।

সিডব্লিউআই ক্রিকেট পরিচালক মাইলস বাসকমে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন স্কুল ক্রিকেটের অবনতি।

“অনেক স্কুলেই এখন প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি স্তরে ক্রিকেট হয় না, বা হলেও মান অনেক নিচে নেমে গেছে। ফলে মানসম্পন্ন ক্রিকেটার উঠে আসছে না। আমরা ছোট বয়স থেকেই খেলোয়াড়দের চিহ্নিত ও লালন করার কর্মসূচি চালু করব,” বলেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের বর্তমান সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে নিকোলাস পুরানের সিদ্ধান্তে। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে মনোযোগ দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন এই তারকা ব্যাটার। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড। তাঁর ভাষায়,

“মানুষকে বুঝতে হবে—টি-টোয়েন্টি কেবল প্রদর্শনী, আর টেস্ট ক্রিকেট হলো আসল পরীক্ষা। যখন খেলোয়াড়দের বিশাল অঙ্কের টাকা অফার করা হয়, তারা এক দিকেই যাবে। এটা প্রচুর টাকা। কিন্তু আমাদের চেষ্টা করতে হবে খেলোয়াড়দের ধরে রাখা, সঠিক শিক্ষা দেওয়া, এবং আশা করতে হবে আমাদের ক্রিকেট ঠিক পথে থাকবে।”

ব্রায়ান লারা সতর্ক করেছেন, আধুনিক ক্রিকেটারদের অনুপ্রেরণা বদলে গেছে।

“আইপিএল, আমেরিকান ক্রিকেট লিগ (এমএলসি)—বিশ্বজুড়ে নানা লিগ হচ্ছে। এখন তরুণদের অনুপ্রেরণা কী? হয়তো সারা বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলার চেয়ে আইপিএল বা বিগ ব্যাশে খেলার আগ্রহই বেশি। আমাদের সেই আগ্রহগুলো বুঝতে হবে এবং সেখান থেকে কীভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট উপকৃত হতে পারে, সেটা বের করতে হবে।”

পুরানের মতো ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে লারা বলেন,

“এ ধরনের পরিস্থিতি কেন ঘটছে তা খুঁজে বের করতে হবে, এবং কীভাবে তা থামানো যায় যাতে সেরা খেলোয়াড়রা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলে। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলো তাদের খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ সমর্থন ও দেশের হয়ে খেলার আবেগ থেকে লাভবান হয়। আমাদেরও সেই আবেগ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনতে হবে।”

ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট পরিচালক মাইলস বাসকম স্বীকার করেছেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের অর্থের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়।

“আমরা কখনো ফ্র্যাঞ্চাইজি অর্থের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারব না—এটা সবাই জানে। তাই আমাদের ভরসা রাখতে হবে গর্বের ওপর—পারফরম্যান্সের গর্ব এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব।”