ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের কামারজানি গ্রামের কবর থেকে সুমন আব্দুল্লাহ’র লাশ মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) মা মজিদা আক্তারের আবেদনের প্রেক্ষিতে উত্তোলন করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ লাশ উত্তোলন করা হয় বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আব্দুল মালেক।
তিনি জানান, ছেলেকে হত্যার অভিযোগে হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মজিদা আক্তার বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলার প্রেক্ষিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য ময়না তদন্ত ও ফরেনসিক রির্পোটের জন্য এ লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।
নিহতের মা মজিদা আক্তার জানান, তার ঔরসজাত দুই পুত্র ও দুই কন্যা ছিলো। প্রায় একবছর পূর্বে বড় ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় বলে জানানো হয় আমাকে। আর ছোট ছেলে সুমন আব্দুল্লাহকে শ্বাসরোধ করে ২০২৩ সালের ৩০জুন হত্যা করা হয়েছে। আমার দু’পুত্র মারা যাওয়ার পরে আমার দু’কন্যাকে এ বাড়ি থেকে গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর বের করে দেয়। এ সময় তারা বলেছে, বাড়ি থেকে বের না হলে সুমনের মতো ওদেরকেও মেরে ফেলবে। সুমন আব্দুল্লাহ’র লাশ ময়না তদন্ত করতে বলেছিলাম। আমার স্বামী হাবিবুর রহমান তখন আমাকে তালাকের হুমকি দিয়েছিলো।
তিনি আরও জানান, তার পুত্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তড়িগড়ি করে লাশ দাফন করে দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় নিহতের সৎ ভাই হাসান মিয়া (২৪), রুবেল মিয়া (৩০), সৎ বোন লিপি আক্তার (৩৪), শাহীনুর আক্তার (২৭), সৎ মা বেগম (৫২), বাবা হাবিবুর রহমান (৬০), মৃত মনিরুদ্দিন মন্ডলের পুত্র মজিবুর রহমান (৪৮), ফজলুর রহমানের পুত্র ওয়াসিম মিয়া (৩৪), জসিম উদ্দিন (৩০), ফজলুর রহমানের স্ত্রী নেহারা খাতুন ও অজ্ঞাতনামা ৬জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান জানান, সেদিন প্রচুর বজ্রবৃষ্টি হয়েছে। বিলের মাঝে সুমন আব্দুল্লাহ পরে ছিলো। শরীরে বুকের মাঝে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। সে বজ্রপাতেই মারা যায়।