দ্য অ্যাথলেটিকের বার্ষিক ‘হোপ-ও-মিটার’ জরিপে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রতিটি ক্লাবের সমর্থকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নতুন মৌসুমে নিজেদের ক্লাব নিয়ে তারা কতোটা আশাবাদী কিংবা হতাশ। আশাবাদীদের এ তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন চেলসির সমর্থকরা।
গত মৌসুমে শেষ ১৬ ম্যাচে ১৪ জয় এবং দুটি শিরোপা জয়ের দারুণ সাফল্যের পর চেলসির ৯৮ শতাংশ এবারের মৌসুমেও ব্যাপক আশাবাদী। যদিও দলে চোট সমস্যা সেই উদ্দীপনায় এরই মধ্যে কিছুটা জল ঢেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লিভারপুল। স্কোয়াডে কিছু ঘাটতি থাকলেও দলীয় ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত তারা। ইংলিশ ফুটবলের ‘উইবলস’ খ্যাত ব্রাইটনও আশাবাদী। কেননা তারা হারের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে, যদিও গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বড় পরিবর্তন ঘটেছে ক্লাবটিতে।
নতুন করে প্রিমিয়ার লিগে ওঠা সান্ডারল্যান্ড এখনো ওয়েম্বলির উচ্ছ্বাস ও গ্রানিত শাকার মতো তারকা সাইনিংয়ের আনন্দে ভাসছে। অবশ্য ইতিহাস বলে এ ধরনের উচ্ছ্বাস দ্রুত মিলিয়ে যেতে পারে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সমর্থকরা বড় নামের নতুন খেলোয়াড়দের আগমনে উজ্জীবিত। ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা এখনও বিশ্বাস রাখছেন পেপ গার্দিওলার ওপর। আগের মৌসুমের ধাক্কা সামলে তিনি দলকে নতুনভাবে সাজাতে পারবেন বলেই বিশ্বাস সিটি সমর্থকদের।
আর্সেনালের ক্ষেত্রে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। টানা তিন মৌসুম রানার্স-আপ হওয়ার পর ক্লান্তির ছাপ পড়েছে সমর্থকদের মনেও। ফলে ইতিবাচক মনোভাব কমেছে, যদিও গ্রীষ্মে কিছু প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় যোগ হয়েছে ক্লাবে। নতুন মালিক ও ডেভিড ময়েসের অধীনে এভারটনের পরিবেশ উজ্জ্বল হয়েছে। নটিংহ্যাম ফরেস্ট সমর্থকেরা গত মৌসুমের অতিরিক্ত সাফল্যের পর এবার কিছুটা সংযত আশা নিয়ে এগোচ্ছেন।
অ্যাস্টন ভিলা, টটেনহ্যাম ও ক্রিস্টাল প্যালেস সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারায় ভরসা রাখছে। তবে ইতিহাস বলে সেই ধারা ধরে রাখা কঠিন। প্রমোশন পাওয়া লিডস ও বার্নলির প্রত্যাশা সান্ডারল্যান্ডের তুলনায় সংযত। কারণ তারা প্রিমিয়ার লিগের কঠিন চ্যালেঞ্জ ভালো করেই জানে। ব্রেন্টফোর্ড, বোর্নমাউথ, ফুলহ্যাম, ওয়েস্ট হ্যাম ও উলভস—সবাই ভিন্ন মাত্রার সতর্ক মনোভাব দেখাচ্ছে। যার পেছনে কারণ স্কোয়াড পরিবর্তন, নতুন সাইনিংয়ের অভাব বা ঐতিহাসিকভাবে বড় আশা তাদের সমর্থকরা করেন না। নিউক্যাসল, যারা গত মৌসুমে ট্রফি জয়ের পর ভরপুর আত্মবিশ্বাসে ছিল, তারা এখন ট্রান্সফার সমস্যা ও অস্থিরতার কারণে সমর্থকদের আশা জোগাতে পারছেন না।
সংক্ষেপে বলা যায়, পশ্চিম লন্ডনে আশার জোয়ার, উত্তর লন্ডনে সতর্কতা, আর বাকিদের মাঝে ছড়িয়ে আছে নানা মাত্রার আশা ও সংশয়। তবে, আশার মতো বিপজ্জনক এবং মাদকতাময় জিনিস ফুটবলে খুব কমই আছে।