গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ নার্সিং কলেজে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ডাক দিয়েছে নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নার্সিং কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা নার্সিং কলেজের ফটকের সামনে কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ লেখা ব্যানার টানিয়ে দিয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ নার্সিং কলেজে শিক্ষাবান্ধব ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কলেজের শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন ভূইয়া, মো. তাজুল ইসলাম ও মো. মোখলেছুর রহমানের বদলির দাবি সাত কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন না হওয়ায় এবং অধ্যক্ষ কর্তৃক প্রহসনমূলক ক্লাস রুটিন প্রকাশ করায় শিক্ষার্থীরা কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ নার্সিং কলেজের সব শিক্ষার্থীরা ‘যোগ্য ব্যক্তি’ অধ্যক্ষ পদে পদায়ন দাবিতে গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলন শুরু করে। পরে অধ্যক্ষ পদে যোগ্য ব্যক্তির পদায়ন করা হয়। ওই আন্দোলনে নার্সিং কলেজের তিন শিক্ষক (নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর) মো. জামাল উদ্দিন ভূইয়া, মো. তাজুল ইসলাম ও মো. মোখলেসুর রহমান সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরাসরি বিরোধিতা করে এবং আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকা- উল্লেখপূর্বক সরাসরি হুমকি প্রদান করে এবং নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ বরাবর লিখিতভাবে জানানোর মাধ্যমে তাদের পাঠদান বর্জনসহ শিক্ষার্থী বিষয়ক সব কার্যক্রম বয়কট করে। তারপরও ওই তিন শিক্ষক বিভিন্নভাবে কলেজের পাঠদানের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিনষ্ট করে চলেছে ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে অপদস্থ করে চলেছে। কলেজের কোনো শিক্ষার্থী তিন শিক্ষকের কাছ থেকে পাঠদান নিতে আগ্রহী নয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ আগস্ট শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের মাধ্যমে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপিতে উল্লেখিত সাত কার্যদিবস সম্পন্ন হওয়ার পরও কলেজের অধ্যক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে ক্লাস রুটিন প্রকাশ করেন।
কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান চয়ন বলেন, কলেজের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষায় স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
কলেজের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর বলেন, শিক্ষকগণ এখানে সরকারি আদেশে বদলি হয়ে এসেছে। তারা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে। কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে শিক্ষকদের কোনো সমস্যা হয়নি। হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।