মতলবে মাদক কারবারিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ছেংগারচর পৌর এলাকায় ও বিভিন্ন ইউনিয়নে দিন দিন মাদক কারবারিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী থানায় বহুবার অভিযোগ করার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে গেছে।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভার জোড়খালী এলাকার চিহ্নিত মাদক কারকারি মৃত শামসুদ্দিনের ছেলে ইয়াবা কাজল ও তার সহযোগী মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইয়াবা মেহেদীর নেতৃত্বে একটি চক্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে।

বর্তমানে মোহনপুর ইউনিয়নের ২০ মামলার আসামি মাদক সম্রাট মো. জনি পলাতক থাকায় 
কাজল ও মেহেদীর নেতৃত্বে একটি চক্র প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি তারা প্রতিনিয়ত ছিনতাই, চুরি ও অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

বালুরচর গ্রামের নুর হোসেন ও জামাল জানান, কাজলের বিরুদ্ধে মতলব উত্তর থানায় বেশ কয়েকটা মাদক মামলাসহ বিভিন্ন মামলা চলমান। তার সহযোগী মেহেদীর বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটা মাদক মামলা আছে। সে কিছুদিন আগে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক হয়েছিল।

কেশাইরকান্দী গ্রামের সুরুজ আলী বেপারীর ছেলে মো. আমান উল্লাহ জানান, তাদের অত্যাচারে আমরা আমাদের জমির সাইনবোর্ড পর্যন্ত রাখতে পারি না। আমাদের নিকট চাঁদা দাবি করে, চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সাইনবোর্ড পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়।

হানিরপাড় এলাকার বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম বলেন, এই কাজল ও মেহেদী গ্রুপের কারণে আমরা বাড়ি করতে পারি না। বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে তারা বড় অংকের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং শ্রমিকদের মারধর করে। এছাড়াও এখানে প্রকাশ্যে মাদক কিনতে আসা উশৃঙ্খল যুবকদের নানা রকম যন্ত্রণা সইতে হয় এলাকাবাসীকে।

এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল হক তিনি বলেন, এর মধ্যে আমরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালিয়েছি। কোনোভাবেই মাদক কারবারিদের ছাড় দেয়া হবে না। ছেংগারচর পৌর এলাকার জোড়খালীসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।