দেশ-মহাদেশ ঘুরে ভয়াবহ দূষণ করছে বিশ্বের ১৫ ধনী ক্লাব!

বিশ্বের শীর্ষ ১৫ ধনী ফুটবল ক্লাব ২০২৫/২৬ মৌসুম শুরুর আগে প্রস্তুতি ও প্রীতি ম্যাচ খেলতে বিমানযোগে মোট ১,৮৩,০৯৫ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ২১ হাজার কেজি কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়েছে। এত মারাত্মক বায়ুদূষণ হয়েছে বলে এক গবেষণা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের গণমাধ্যম 'গ্লোবো'। 

আর্সেনাল শুরু করেছিল স্পেনে, তারপর সিঙ্গাপুর ও হংকং ঘুরে ইংল্যান্ডে ফেরে—মোট ভ্রমণ ২৪,৬৫৭ কিমি। সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেছে এসি মিলান—ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, আবার মিলান, তারপর লন্ডন ও ডাবলিন—মোট ৩৫,৪০৭ কিমি, যা প্রায় পৃথিবী একবার ঘুরে আসার সমান। লিভারপুল গেছে হংকং ও জাপান, বার্সেলোনা গেছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।

এসি মিলান প্রাক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি পথ ঘুরেছে বিমানে

তবে সবাই এত ভ্রমণ করেনি। রিয়াল মাদ্রিদ মূলত স্পেনেই থেকেছে, শুধু একটি ম্যাচের জন্য অস্ট্রিয়ায় গিয়েছে। বায়ার্ন মিউনিখ, চেলসি ও পিএসজি প্রাক-মৌসুমে কোথাও যায়নি, কারণ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম নেয়ার ব্যাপার ছিল 

কেন এত দূরে যায় ক্লাবগুলো?

প্রধান কারণ টাকা। এসব ট্যুর নতুন বাজার ধরতে ও ব্র্যান্ড ছড়াতে সাহায্য করে। যেমন—ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মালয়েশিয়া সফরে ১০ মিলিয়ন ইউরো, বার্সেলোনা এশিয়া সফরে ১৫ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছে।

কার্বন নির্গমন ও জলবায়ুর ক্ষতি 

বিমানের জন্য জ্বালানি পোড়াতে হয়—এই দহন থেকে নির্গত হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা সবচেয়ে ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর একটি। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রাক-মৌসুম সফরে মোট ৫,২১,৪০৪ কেজি কার্বন নির্গত হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান ইনস্টিটিউট অব ফরেস্টসের হিসাব মতে, এটি সামাল দিতে প্রথম ২০ বছরে প্রায় **৩,৭২০টি গাছ লাগাতে হবে। 

দূষণ রোধের উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দূরের সফরের বদলে স্থানীয়ভাবে ম্যাচ আয়োজন করলে দূষণ কমবে। বিকল্প জ্বালানি সাসটেইনেবল এভিয়েশন ফুয়েল- এসএএফ ব্যবহার করলে সাধারণ কেরোসিনের তুলনায় ৬০–৮০% কম কার্বন ডাই অক্টাইড নির্গমন হবে, তবে এখনো এটি সীমিত ও ব্যয়বহুল।
ফ্রান্স ইতিমধ্যে এমন ফ্লাইট বন্ধ করেছে যেগুলো ট্রেনে আড়াই ঘণ্টায় যাওয়া যায়। অন্যান্য দেশও এই পথ অনুসরণ করতে পারে।

আর্সেনাল শুরু করেছে সবার আগে

ফুটবলের বড় দূষণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে পেশাদার ফুটবল বছরে সর্বোচ্চ ৬৬ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ দূষণ করে—যা অস্ট্রিয়ার মতো ধনী দেশের বার্ষিক নির্গমনের সমান। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশ সফর, স্টেডিয়াম নির্মাণ ও স্পনসরশিপ।

সব মিলিয়ে ফুটবল যতই বৈশ্বিক খেলাধুলা হোক, তার পরিবেশগত দায়ও ততই বাড়ছে। অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি পৃথিবী রক্ষায়ও দায়িত্ব নিতে হবে।