গাজীপুরের শ্রীপুরে সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল। এর আগে বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে কাওরাইদ ইউনিয়নের নান্দিয়াসাঙ্গুন এলাকার ত্রিমোহী ব্রিজ থেকে সূতিয়া নদীর পানিতে লাফিয়ে পড়ে সে।
ওই শিক্ষার্থীর নাম লামিয়া আক্তার (১৭)। সে ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের মানবিক শাখার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল বুধবার প্রথম দফায় লাশ উদ্ধারে নদীতে তল্লাসি চালায়। কোনো হদিস না পেয়ে ওই দিন বিকালে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে। এর পর দ্বিতীয় দিনে আজ ফের উদ্ধার অভিযানে নামের ডুবুরি দল। পরে ঘটনাস্থলের পাঁচ ছয়শ মিটার অদূর থেকে ২৮ ঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকালে (৯ টার দিকে) ত্রিমোহী এলাকার সূতিয়া নীর ওপর নির্মিত সেতু থেকে নদীর পানিতে ঝাঁপ দেয় লামিয়া আক্তার। এরপর আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। অনেক্ষণ চেষ্টা করেও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থল এসে নদীতে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। তবে বহু চেষ্টা করেও কলেজ ছাত্রীকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা যায়নি। বিকালে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে। পরে আজ (১৪ আগস্ট) ফের উদ্ধারে নামে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার ভাটিতে তিন নদীর মোহনায় মরদেহ খুজে পায় ডুবুরি দল।
নিহতের স্বজনরা জানান, মঙ্গলবারও লামিয়া বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিল। বাড়ির সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলেছে। রাতে জন্মদিনও পালন করা হয় লামিয়ার। কিন্তু সকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয় লামিয়া। আমরাও বিস্মিত হয়েছি তার এমন আচরণে। সে যথেষ্ট শান্ত স্বভাবের ছিল।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের অফিসার (ডুবুরি) ইদ্রিস আলী বলেন, “খবর পেয়ে উদ্ধারে নেমে প্রথম দিন মরদেহ খোঁজে পাওয়া যায়নি। আজ ফের উদ্ধার অভিযানে নেমে দুর্ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার ভাটিতে কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ পাওয়া যায়।”
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়টি এখন টঙ্গী নৌ থানা পুলিশ তদারকি করছে। তারা এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।