দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। দোয়া শুধু মুখের উচ্চারণ বা আনুষ্ঠানিক প্রার্থনা নয়, বরং বান্দা ও তার প্রভুর মধ্যে এক অন্তরঙ্গ আলাপ, হৃদয়ের গভীর থেকে আসা মিনতি ও আশা। দোয়া হলো দৃঢ় ইমানের প্রকাশ, ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতার স্বীকৃতি। কোরআনে বহুবার বান্দাকে দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোয়া এমন এক ইবাদত যা মুমিনের জীবনে আনন্দ, শান্তি, সাহস ও আশার উৎস হয়ে ওঠে। এমন এক দোয়া আছে, যা একসঙ্গে ব্যক্তির গুনাহের ক্ষমা, জীবিকায় বরকত এবং ঘরে প্রশান্তি আনে।
দোয়া : ‘আল্লাহুম্মাগফির লি জাম্বি, ওয়া ওয়াসসি লি ফি দারি, ওয়া বারিক লি ফিমা রাজাকতানি।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার আবাসস্থল প্রশস্ত করুন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন।
এই দোয়া সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আজ রাতে আমি আপনার দোয়া শুনেছি। আমি তা হতে যা মনে রাখতে পেরেছি তা এই যে, আপনি বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, আমার আবাসস্থল প্রশস্ত করুন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন।’ রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, তুমি কি মনে করো যে, এ দোয়াটি কোনো বিষয় বাদ দিয়েছে? (সুনানে তিরমিজি ৩৫০০)
এ দোয়াটি এতই পরিপূর্ণ যে, এটি দুনিয়া ও আখেরাতের সব চাহিদা পূরণ করে। এ দোয়ার ৩টি মূল বিষয়। এক. গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করা। রাসুল (সা.) বলতেন, ‘হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো, আমি দিনে ১০০ বারও তাওবা করি।’ (সহিহ মুসলিম ২৭০২) দুই. ঘরের প্রশস্ততা কামনা করা। দোয়ায় ‘দার’ বলতে শুধু ঘর নয়, জীবনের সব ক্ষেত্র (স্বাস্থ্য, সময়, সম্পর্ক) অন্তর্ভুক্ত। তিন. রিজিকে বরকত কামনা করা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি যাকে ইচ্ছা সচ্ছলতা দিই, আর যাকে ইচ্ছা সীমিত রিজিক দিই।’ (সুরা সাবা ৩৬) বরকত মানে কম সম্পদেও তৃপ্তি ও কল্যাণ। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই দোয়া বেশি বেশি পড়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।