কাশ্মীরে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৬০, নিখোঁজ ২০০

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলার চাসোটি গ্রামে প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬০ জনে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ শতাধিক। শুক্রবার দিনভর উদ্ধারকর্মীরা হাতুড়ি, কোদাল এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বালু ও পাথরের স্রোতে ভেসে যায় চাসোটি গ্রাম, যেখানে শত শত তীর্থযাত্রী মধ্যাহ্নভোজ করছিলেন।

স্থানীয় একটি মন্দিরে যাওয়ার পথে এই গ্রামে এসে জমায়েত হন তারা। হঠাৎ নেমে আসা পাহাড়ি বন্যা অনেককে চেনাব নদীতে টেনে নেয়, আবার অনেকেই কাদামাটির নিচে চাপা পড়েন।

একজন আহত তীর্থযাত্রী রাকেশ শর্মা বলেন, ‘আমরা প্রথমে একটি বড় শব্দ শুনি, এরপরই হঠাৎ বন্যা ও কাদার ঢল এসে পড়ে। মানুষ চিৎকার করছিল, কেউ নদীতে পড়ে যাচ্ছিল, কেউবা চাপা পড়ে যাচ্ছিল ধ্বংসস্তূপে।’

শুক্রবার গ্রামে পড়ে থাকা কাদা মাখা ব্যাগ, পোশাক, বিদ্যুতের খুঁটির ভাঙা অংশ এবং অন্যান্য জিনিসপত্রের মধ্যেই উদ্ধার কাজ চালান কর্মীরা। অস্থায়ী সেতু ও দড়ি ব্যবহার করে তারা আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, ‘এখন পর্যন্ত ৬০ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক এবং প্রায় ২০০ জন এখনো নিখোঁজ।’

হিমালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল বরাবরই বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব দুর্যোগের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ছে। এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই উত্তরাখণ্ডে একই ধরনের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস একটি পুরো গ্রামকে গ্রাস করেছিল।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ক্লাউডবার্স্ট বলতে বোঝায় এক ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত, যা পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ বন্যা ও ধস নামাতে পারে।

ভারতের প্রতিবেশী নেপালেও চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২১ জন নিখোঁজ এবং ১২১ জন আহত হয়েছেন। ভারি বৃষ্টি, ভূমিধস ও শিলাবৃষ্টির কারণেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের উত্তরে ভারি বর্ষণে গতরাতে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫০ জন। ছাদ ধসে এবং বন্যার পানিতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে আরও ৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি পরিবারের ৬ জন একইসঙ্গে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মারা যান। সেখানে আটকে পড়া স্থানীয় পর্যটকদের উদ্ধারে চলছে জোর তৎপরতা।