আমেরিকার ওপর নির্ভর করছেন জেলেনস্কি, ট্রাম্প বললেন ‘দর কষাকষি করতে পারব না’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকের প্রেক্ষিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমরা এই বৈঠকে আমেরিকার ওপর নির্ভর করছি।’

এই বৈঠককে ‘উচ্চ ঝুঁকির’ বলে উল্লেখ করে জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেছেন, এটি ভবিষ্যতে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক আলোচনার পথ খুলে দেবে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আলোচনা হবে, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইউক্রেনের। দর কষাকষি করব না।

এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, ‘এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তির পথে বাস্তব অগ্রগতি এবং তিন নেতার মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা শুরুর সুযোগ সৃষ্টি করা।’

জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘এখনই সময় যুদ্ধের অবসান ঘটানোর। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে রাশিয়াকে। আমরা সব সময়ের মতো গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। আমরা আশা করছি, আলাস্কার বৈঠকে রাশিয়ার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন আমরা পাবো।’

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় সেনারা পূর্ব ডোনেৎস্ক অঞ্চলের পোকরভস্ক এলাকায় রুশ বাহিনীর অবস্থান নেবার চেষ্টাকে প্রতিহত করছে। ডোব্রোপিলিয়া শহরসহ ডোনেৎস্ক অঞ্চলের আরও কিছু এলাকা অতিরিক্তভাবে সুরক্ষিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউক্রেন।

তিনি বলেন, ‘আলাস্কার বৈঠকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে রুশ সেনারা যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।’

এদিকে, আলোচনায় কি ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড অদলবদলের বিষয়টি থাকছে কি না সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়ে আলোচনা হবে, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইউক্রেনের। আমি মনে করি, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে ইউক্রেনের হয়ে দর কষাকষি করতে আসিনি। তবে আমি প্রেসিডেন্ট না হলে পুতিন পুরো ইউক্রেন দখল করে ফেলতো। এখন তিনি তা করতে পারবেন না।’

যুক্তরাষ্ট্র কি ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে? এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, ‘সম্ভব, তবে ন্যাটোর অংশ হিসেবে নয়। ইউরোপ এবং অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি আমরা অগ্রগতি করতে পারি, তাহলে সে বিষয়ে কথা হবে।’