ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের কুমড়ি গ্রামে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর সুমন। হামলায় তার বাম পা ভেঙে যায় ও মাথায় প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হন।
তিনি দৈনিক আজকের খবরের ময়মনসিংহের বিশেষ প্রতিবেদক ও স্থানীয় নিউজপোর্টাল প্রেসটিভি.কম’র এডমিন। তিনি উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের মো. মমতাজ উদ্দিনের পুত্র। এ ঘটনায় শনিবার (১৬ আগস্ট) গৌরীপুর থানার অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দিদারুল ইসলাম। তিনি জানান, খবরে পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর সুমন জানান, পূর্ববিরোধে জের ধরে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাতে কুমড়ি গ্রামের রতন মিয়ার বাড়িতে একটি মেয়ের সাথে প্রেমসংক্রান্ত ঘটনায় এক ছেলে আটক রয়েছে খবর পান। রাত সাড়ে ১০টায় গৌরীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে কুমড়ি গ্রামের আলী জাহান পুলিশের বাড়ির সন্নিকটে আসলে মোটর সাইকেলের গতিরোধ করে হামলা চালায়। হামলা করে তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত ও বাম পা ভেঙে দেয়।
এ সময় তার সাথে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ও ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সাংবাদিক হুমায়ুন কবরি সুমন বাদী হয়ে এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান জনি, রেজাউল করিম পনি, রিয়াজুল ইসলাম শুভ, সজিব মিয়া, আবুল কালাম (কালা মিয়া), রমজান আলী, মানিক মিয়া ও কামাল মিয়াকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মৃত মাহাতাব উদ্দিনের পুত্র হাবিবুর রহমান জনি জানান, সুমনদের সাথে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। সে যেখানে তথ্য সংগ্রহের জন্য যায়, সেটা আমার আত্মীয় বাড়ি। হামলার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম। ডাক-চিৎকার শুনে আমি এসে সাংবাদিক সুমনকে উদ্ধার করে একটি বাড়িতে নিয়ে যাই। তার পায়ে ও মাথায় যেখানে আঘাত পেয়েছে সেখানে সেবা-শুশ্রুষা করেছি। কে বা কারা হামলা করেছে, সেটা বলতে পারবো না। জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই মামলায় আমাদেরকে আসামি করা হয়েছে।
কুমড়ি গ্রামের স্বপন মিয়া জানান, তিনি আমাদের বাড়ি থেকে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। চেচামেচি শোনে সেখানে গিয়ে দেখি সাংবাদিক ও তার মোটর সাইকেল থাকা আবুল মিয়া আহত হয়েছেন। তাদেরকে কারা হামলা করেছে, তা আমরা দেখি নাই।