মুন্সীগঞ্জে বিসিকের ৪০ একর জমিতে হবে ‘ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট’

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে বিসিকের অধিগ্রহণকৃত ৪০ একর জমিতে নির্মিত হবে ‘ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট’। এই প্ল্যান্টে ওষুধের পাশাপাশি অ্যান্টিভেনমও উৎপাদন করা হবে। প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে গোপালগঞ্জে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মুন্সীগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে সিরাজদীখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের গোয়ালখালী এলাকায় বিসিক কেমিক্যাল শিল্পপার্কের ‘ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট প্রকল্প’ এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি জমির রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

নূরজাহান বেগম বলেন, ‘গোপালগঞ্জে ভ্যাকসিন প্ল্যান্টের অবস্থান যোগাযোগের দিক থেকে প্রত্যন্ত ছিল। ভ্যাকসিন উৎপাদনের পর ফ্রিজিং করে সারা দেশে পাঠাতে হবে, তাই সুবিধাজনক যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য মুন্সীগঞ্জ বেছে নেওয়া হয়েছে। এখানে বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি বিদদের সহজে নিয়োগ করা সম্ভব হবে, যা গোপালগঞ্জে চ্যালেঞ্জিং ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ৪০ একর জমিতে আমরা ভ্যাকসিন ও ওষুধ উৎপাদনের পাশাপাশি অ্যান্টিভেনম তৈরির পরিকল্পনা করছি। বর্তমানে আমরা অ্যান্টিভেনম আমদানি করি, কিন্তু বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষের জন্য আমদানিকৃত অ্যান্টিভেনম সবসময় কার্যকর হয় না। তাই চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাপের বিষ সংগ্রহ করে এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেশীয় অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হবে।’

ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট নির্মাণের সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে উৎপাদিত ওষুধ হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৭০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে, যা গুণগত মানে বিদেশি ওষুধের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়। এই সক্ষমতা ১০০ শতাংশে উন্নীত করতে আরও কিছু যন্ত্রপাতি আমদানি করা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে।’