নবম গ্রেডের দাবি সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপজেলা/থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা তাদের পদ দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ এ দাবি উত্থাপন করে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব আল আমিন হাওলাদার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় আহ্বায়ক মুহাম্মদ মিলন মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনের নেতারা জানান, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে, ১৯৯৪ সালে এই পদ ১০ম গ্রেডে উন্নীত হওয়ার পর গত ৩১ বছরে আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। এদিকে, প্রধান শিক্ষকের পদ ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকের পদ ১৮তম থেকে ১৩তম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও পিটিআই সুপারিনটেনডেন্টের পদও ষষ্ঠ গ্রেডে এবং পিটিআই ইন্সট্রাক্টরের পদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছে। অন্যান্য দপ্তরের সমগ্রেডের কর্মকর্তারাও ৯ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। এই বৈষম্যের কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা ও কর্মস্পৃহা হ্রাস পাচ্ছে।

বর্তমানে ২ হাজার ৬২৯টি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পদের বিপরীতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের পদ মাত্র ৫১৬টি। নিয়োগবিধি অনুযায়ী, মাত্র ২৫৮ জন পদোন্নতির সুযোগ পান, অর্থাৎ প্রতি ১০ জনে মাত্র একজন।

এ ছাড়া একজন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ৩০ জন ১০ম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক ও ১৬০-২০০ জন ১৩তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক তত্ত্বাবধান করেন। একই গ্রেডের প্রধান শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে থাকায় প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এই পদ নবম গ্রেডে উন্নীত করলে সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক বোঝা বাড়বে না। বর্তমানে ১ হাজার ৭২৭ জন কর্মরত কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র ২৬৭ জন ১০ম গ্রেডে রয়েছেন। বাকিরা ইতিমধ্যে টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের মাধ্যমে ৭ম, ৮ম বা ৯ম গ্রেডের বেতন পাচ্ছেন। ফলে, এই উন্নীতকরণে শুধু ২৬৭ জনের বেতন প্রভাবিত হবে।

২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনসালটেশন কমিটি শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পদের গ্রেড উন্নীতকরণের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠকেও এই পদ ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণের সুপারিশ করা হয়, যা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। গত ২৩ মার্চ ৬৪টি জেলার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা প্রধান উপদেষ্টা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিব, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও সিনিয়র সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি দ্রুত এই দাবি বাস্তবায়নের জন্য জোরালো আহ্বান জানান।