অচল ক্যামেরা সচল অপরাধ

জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র তমালতলা মোড়। এ মোড় থেকে শহরের তিনটি প্রধান সড়ক বিভিন্ন দিকে প্রসারিত। এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে স্থাপিত তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা এখন অকেজো। ক্যামেরাগুলো ভাঙা এবং নিচের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। অথচ, অপরাধপ্রবণতা কমাতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি জোরদার করতে চার বছর আগে জামালপুর পৌরসভা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ক্যামেরাগুলো স্থাপন করেছিল। প্রাথমিকভাবে এর ফলে অপরাধ কিছুটা হ্রাসও পেয়েছিল। কিন্তু ক্যামেরাগুলো অকার্যকর হওয়ায় অপরাধপ্রবণতা আবার বেড়েছে।

শুধু তমালতলা মোড় নয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে পৌরসভা ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ১২৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে। বর্তমানে এর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ ক্যামেরা সচল; বাকিগুলো হয় অকেজো, নয়তো চুরি হয়ে গেছে। জনস্বার্থে স্থাপিত এই ক্যামেরাগুলো কেন অচল হয়ে পড়ল, এ বিষয়ে পৌরসভার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব নেই। সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন জরুরি।

পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে শহরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১২৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ২২টি ক্যামেরা পৌরসভার কার্যালয়ে এবং বাকি ১০৪টি পৌর কবরস্থান, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো বুড়ির দোকান মোড়, তমালতলা মোড়, নয়াপাড়া পাঁচরাস্তার মোড়, বকুলতলা মোড়, ফৌজদারি মোড়, দেওয়ানপাড়া মোড় এবং পৌরসভার সামনে।

ক্যামেরা বসানোর কাজটি করে সাবেক মেয়র আলহাজ ছানোয়ার হোসেন ছানুর মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মামীম এন্টারপ্রাইজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফৌজদারি মোড়, তমালতলা মোড়, দেওয়ানপাড়া মোড়, বকুলতলা মোড় ও বুড়ির দোকান মোড়ে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোর কয়েকটির তার বিচ্ছিন্ন, কয়েকটি ভাঙা, আবার কিছু ক্ষেত্রে তারের সঙ্গে এই অকেজো ক্যামেরাগুলো অপরাধী শনাক্তকরণ বা অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখছে না। ফলে চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও জড়িতরা অনেক ক্ষেত্রে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত চার বছরে এগুলোর সংস্কার বা নতুন ক্যামেরা স্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌরসভা।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সচেতন মহল নষ্ট ক্যামেরাগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘পৌর কর্র্তৃপক্ষ বিপুল অর্থ ব্যয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিল। কিন্তু অবহেলা ও তদারকির অভাবে এগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে অপরাধ অনেকাংশে কমে যেত এবং অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হতো। পৌরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ক্যামেরা মেরামত ও নতুন ক্যামেরা স্থাপন জরুরি। এই প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘কিছু ক্যামেরা সচল আছে। নষ্ট ক্যামেরাগুলো বর্ষা মৌসুমের পর পর্যায়ক্রমে সংস্কার বা নতুন করে স্থাপন করা হবে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পৌরসভা নিয়ন্ত্রণ করে। আমাদের প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা নেওয়া যেত। কিন্তু ক্যামেরাগুলো নষ্ট হওয়ায় এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পৌর কর্র্তৃপক্ষকে ক্যামেরা মেরামত বা নতুন করে স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।’

পৌর প্রশাসক একেএম আব্দুল্লাহ-বিন-রশীদ বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখলাম, একটি কক্ষে সিসিটিভির যন্ত্রপাতি রাখা আছে। কিন্তু কেন এগুলো কার্যকর নয়, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’