ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম আর্সেনাল—প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের শুরুতেই এই মহারণে মাঠে নামছে দুই ইংলিশ জায়ান্ট। তবে লড়াইয়ের বাইরেও আলাদা এক আকর্ষণ থাকছে রুবেন আমোরিম আর ভিক্টর গিওকারেসের পুনর্মিলন। স্পোর্টিং লিসবনে একসঙ্গে কাজ করার সময় তারা পর্তুগিজ ফুটবল শাসন করেছিলেন, ইউরোপের ডিফেন্ডারদের আতঙ্কে রেখেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের খেলায় এবার তারা মুখোমুখি, এক পক্ষ আর্সেনালের নতুন গোলমেশিন, অন্যপক্ষ ম্যানইউর নতুন কোচ।
কেন ইউনাইটেডকে ফিরিয়ে দেন গিওকারেস
আমোরিম গতবছর কোচ হয়ে আসার পর ম্যানইউ গিওকারেসকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু সাবেক কভেন্ট্রি সিটি স্ট্রাইকার সোজাসুজি জানিয়ে দেন, তার চোখ শুধু আর্সেনালের দিকেই। ঘোষণার পরপরই তিনি বলেন, “অবশ্যই অন্য ক্লাব থেকেও প্রস্তাব ছিল, কিন্তু আমার কাছে এটা কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল না। আমি আর্সেনালকেই বেছে নিয়েছি।” চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে খেলার সময় তিনি ক্লাবটির শক্তি আর ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুগ্ধ হন। গিওকারেসের ভাষায়, “ইতিহাস, ভক্তদের ভালোবাসা—সব মিলিয়ে আমি আর্সেনালকে বেছে নিয়েছি।”
আমোরিমের কারণে ‘অসন্তুষ্টি’
পর্তুগিজ গণমাধ্যমের খবর, গিওকারেসের এজেন্ট হাসান চেতিনকায়া ম্যানইউ বস আমোরিমের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। কারণ, আমোরিম কোচ হয়ে আসার পর সুইডিশ সেন্টার ব্যাক ভিক্টর লিন্ডেলফকে ম্যানইউ ছেড়ে যেতে হয়, আট বছর খেলা লিন্ডেলফের চুক্তি নবায়ন করেনি ম্যানইউ, যে ঘটনা এজেন্ট চেতিনকায়াকে কস্ট দিয়েছিল। তখনই ধারণা জন্মে, গিওকারেসের জন্য ওল্ড ট্রাফোর্ডের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে।
আমোরিমকে ঘিরে গিওকারেসের সত্যিকারের অনুভূতি
স্পোর্টিংয়ে থেকেই গিয়োকারেস বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডে রূপ নেন। তিনি স্বীকারও করেছেন, “আমোরিমের অধীনে খেলার ধরণ আমাকে দারুণ মানিয়েছে। আমরা টানা দুই বছর লিগ জিতেছিলাম, যা ৭১ বছর পর ঘটেছিল।”তবে আমোরিম হঠাৎ স্পোর্টিং ছেড়ে যাওয়ায় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। বলেন, “এভাবে মৌসুমের মাঝপথে কোচ চলে যাওয়া আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল, কিন্তু তার সিদ্ধান্ত আমি বুঝতে পেরেছিলাম।”
গিওকারেসকে নিয়ে ভাবছেন না আমেরিম
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আমোরিম তার সাবেক শিষ্যকে নিয়ে বলেছেন, 'ও খুব ভালো খেলোয়াড়, খুব ভালো ছেলে। তবে শেষ পর্যন্ত সে আরেকজন প্রতিপক্ষই। আর রবিবার সে থাকবে অন্য দলে, আর [হাসি] আমি ভিক্টরকে নিয়ে ভাবছি না।'
ম্যানইউ–আর্সেনাল ম্যাচে নতুন অধ্যায়
আজ মাঠে নেমে পুরনো গুরু আমোরিমকে গিওকারেস গোল দিয়ে শাস্তি দেবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তিনি জানেন, তিনি ইউনাইটেডেও সফল হতে পারতেন, তবে তার মন পড়ে ছিল আর্সেনালের প্রতি। আর আমোরিম স্পষ্ট করেছেন—যে খেলোয়াড় কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতেই আসতে চায়, তার জন্য ম্যানইউ নয়।