সাঈদীর ফাঁসির রায়ে ‘মিষ্টি বিতরণকারী’ আ. লীগ নেতাকে পিটুনির পর পুলিশে হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর মিষ্টি বিতরণ করা পিরোজপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

শনিবার (১৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে ইন্দুরকানী উপজেলার ঘোষেরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন।

আটক ব্যক্তির নাম মো. এহসান হিরণ। তিনি বালিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় ঘোষণা করলে, হিরণ ওইদিন এলাকায় আনন্দ প্রকাশ করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন।

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে হিরণ আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার রাতে ঘোষেরহাট বাজারে তাকে দেখতে পেয়ে কয়েকজন প্রথমে মিষ্টি খাওয়ায়, পরে মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হিরণকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ওসি মারুফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঘোষেরহাট বাজারে স্থানীয়রা আওয়ামী লীগ নেতা হিরণকে আটক করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আজ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনালের সেই রায়ের পর আপিল বিভাগ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর দণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেন দেন। সেই দণ্ড ভোগকালে ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট ৮৩ বছর বয়সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান সাঈদী।

সাঈদীর বাড়ি পিরোজপুর জেলার জিয়ানগর উপজেলার সাউদখালী গ্রামে। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জামায়াতের মনোনয়নে পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।