গ্রীষ্মের শুরুতে ১২ দিনের লড়াইয়ের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েল সম্পূর্ণভাবে অসহায় হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন তেহরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। তিনি ইরাক ও লেবানন সফরের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ কথা জানিয়েছেন।
লারিজানি বলেন, ‘শত্রু মনে করেছিল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব থেকে শক্ত, কিন্তু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে তারা একেবারেই অক্ষম হয়ে পড়েছিল।’
তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘যুদ্ধের প্রথম দিনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতান্যাহু ভাবেছিলেন ইরান ‘শেষ’, কিন্তু চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন, ইসরায়েলের বড় সমস্যা হয়েছে।
তবুও লারিজানি সতর্ক করেছেন যে, বিজয় নিয়ে অহংকার করা ঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘শত্রু সব সময় নতুন কৌশল খুঁজে বের করে। আমাদেরও একভাবে লড়াই করা ঠিক হবে না।’
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুনের এই ১২ দিনের সংঘর্ষে ইরান ও ইসরায়েলের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও উভয় পক্ষ এখনও ভাষায় যুদ্ধ চালাচ্ছে। ইসরায়েলের সেনা প্রধান বলেছেন, ভবিষ্যতে আরও আঘাতের জন্য তারা প্রস্তুত, আর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, কোনো হামলার ক্ষেত্রে তারা আরও শক্তভাবে প্রতিক্রিয়া দেবে।
লারিজানি বলেছেন, জুনের সংঘর্ষটি আলাদা ছিল, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘যারা সাধারণত আঞ্চলিক বিষয়গুলোর আড়ালে থাকত, তারা এবার সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছে। তাদের প্রতিরক্ষা সচিব বোমাবর্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্ষমতা থেকে দূরে থাকা লারিজানি এখন ইরানের সামরিক ব্যবস্থায় সমন্বয় ফিরিয়ে আনার দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানের সামরিক কৌশল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সফল হয়েছে। অবশ্য আমাদেরও কিছু দুর্বলতা ছিল।’
তিনি আরও সতর্ক করেছেন, ‘শত্রুর ইরানের ভিতরে অনুপ্রবেশ খুবই সমস্যা। আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল যা সত্যিই কষ্টদায়ক।’
খবর: ইরান ইন্টারন্যাশনাল