মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চাইলে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে। তবে এর জন্য ইউক্রেনকে ক্রিমিয়া ছেড়ে দেওয়া এবং ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার শর্ত মেনে নিতে হবে।
ট্রাম্প গত রবিবার রাতে ট্রুথ সোশ্যালে এ কথা বলেন, জেলেনস্কির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে তাঁর বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে।
২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া। এরপর ২০২২ সালে পুরোদমে ইউক্রেনে হামলা চালায় মস্কো।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের দুই দিন পর জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা হচ্ছে ট্রাম্পের। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতির বদলে স্থায়ী শান্তিচুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। গত রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান জেলেনস্কি। তিনি ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ সোমবার হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনে উত্তপ্ত বিতণ্ডার পর এটাই হবে তাদের প্রথম সরাসরি আলোচনা। তবে এবার জেলেনস্কি একা নন, তাঁর সঙ্গে ইউরোপীয় নেতারাও রয়েছেন।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনও আলোচনায় যোগ দেবেন। তবে কতজন হোয়াইট হাউসে যাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প জেলেনস্কিকে কঠিন শর্ত মানতে বাধ্য করতে পারেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ট্রাম্প জেলেনস্কিকে চাপ দেবেন-এটা মিডিয়ার গুজব ছাড়া কিছু নয়।
গত ফেব্রুয়ারিতে ওভাল অফিসে জেলেনস্কির সফর শেষে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের সঙ্গে তাঁর তর্ক বেধে যায়। এতে আলোচনা ব্যাহত হয়। এবার সেই ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য ইউরোপীয় নেতারা সতর্ক রয়েছেন।
এর মধ্যে গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউক্রেন একটি খনিজসম্পদ চুক্তি সই করে। পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় ভ্যাটিকানে ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকেও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। জেলেনস্কি স্পষ্ট জানান, ইউক্রেন মার্কিন অস্ত্রের মূল্য পরিশোধে প্রস্তুত। গত জুলাইয়ে টেলিফোনে তাদের আলাপকে জেলেনস্কি ‘সেরা আলোচনা’ বলে উল্লেখ করেন।