গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামকে যুক্ত করা তিস্তা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এরপরই এটি যানবাহন ও মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চলতি বছরের ৪ জুলাই সেতু পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুর রশীদ মিয়া ও যুগ্ম সচিব মো. সামছুল ইসলাম। প্রথমে ২ আগস্ট সেতুটি চালুর পরিকল্পনা করা হলেও পরে ২৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। তবে পরিশেষে ২০ আগস্ট উদ্বোধনের তারিখ ঠিক হয়।
উজ্জ্বল চৌধুরী আরও বলেন, ‘দেশে এলজিইডির অধীনে সবচেয়ে বড় প্রকল্প হলো এই তিস্তা সেতু। সেতু চালুর ফলে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, সাশ্রয় হবে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ভ্রমণ সময়। এতে যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটবে। পাশাপাশি নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।’
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুরঘাট এলাকায় সেতুটি নির্মিত হয়েছে, যা জেলা শহর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দূরে। অপর প্রান্তে রয়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারী ঘাট। সেতু উদ্বোধনের আগেই এটি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন, এলাকাটি এখন যেন বিনোদনকেন্দ্রে রূপ নিয়েছে।’
জেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হয়। এক হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯২৫ কোটি টাকা। কাজটি সম্পন্ন করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন লিমিটেড’।
সুন্দরগঞ্জ তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শরিয়ত উল্যা জানান, সেতুর দাবিতে ১৯৯০ সাল থেকে স্থানীয় মানুষ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিল। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছিল। অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সেতুটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার কথা শুনেছি। সেতু উদ্বোধনে দুই জেলার মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের শেষ নাই। সেতু চালু হলে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ হবে।’
গাইবান্ধার মতো তুলনামূলক পশ্চাৎপদ জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নও ঘটবে।