ওয়াকিটকিতে দেওয়া চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের নির্দেশনা ফাঁস করার অভিযোগে গ্রেপ্তার সেই কনস্টেবল অমি দাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম আলাউদ্দীন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অমি দাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’
এর আগে গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরের সল্টগোলা ক্রসিং ইশান মিস্ত্রি হাট সংলগ্ন সড়কে ঝটিকা মিছিল করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এসময় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শাকিল নামে এক যুবলীগ নেতা পুলিশের বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ ওরফে রানাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পুলিশের এই কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনার পর ১৩ আগস্ট রাতে ওয়াকিটকিতে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যে অস্ত্রের প্রাধিকার ছিল, ওই প্রাধিকার অনুযায়ী থানার মোবাইল পার্টি, প্যাট্রোল পার্টি, ডিবির টিমসমূহ ও সকল ফোর্স অস্ত্র ক্যারি করবে। আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়া এবং লাইভ অ্যামুনিশন ছাড়া কোনো প্যাট্রোল পার্টি, মোবাইল পার্টি, ডিবির পার্টি, চেকপোস্ট পার্টি বের হবে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের প্রাধিকার অনুযায়ী লাইভ অ্যামুনিশন ছাড়া কেউ বের হবে না। প্রাধিকার অনুযায়ী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও স্যুট পরে তারপর ডিউটিতে যাবে।’
ওয়াটকির বার্তায় পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র রবার বুলেট দিয়ে কাজ হচ্ছে না। বন্দরে (বন্দর থানা) একজন এসআই গুরুতর আহত হয়েছেন। আরেকদিন আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটবে। বন্দর থানার অফিসার যে অবস্থায় পড়েছেন, ওই পরিস্থিতিতে পড়লে যেন লাশ ছাড়া মোবাইল পার্টি, পেট্রোল পার্টি ফেরত না আসে। পুলিশের কোনো টহল পার্টির সামনে অস্ত্র বের করলে, আই রিপিট, সেটা ধারালো অস্ত্র হতে পারে কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র হতে পারে- অস্ত্র বের করা মাত্র গুলি হবে, এতে কোনো সন্দেহ নাই, সবাইকে বলছি। আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার, দন্ডবিধি ৯৬ থেকে ১০৬ পর্যন্ত, আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার সকল পুলিশ অফিসারের আছে। অস্ত্র কিংবা কোপ দেওয়ার আগে অস্ত্র বের করা মাত্র গুলি হবে। সরকারি গুলির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
তবে ওয়াকিটকিতে দেওয়া সিএমপি কমিশনারের এই নির্দেশনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কমিশনারের ওই বার্তা ফাঁস হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েন নগরের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা। এর পেছনে কে বা কারা জড়িত তদন্তে নামে পুলিশ।
এরপর গত রবিবার (১৭ আগস্ট) রাতে কনস্টেবল অমি দাশকে গ্রেপ্তার করে খুলশী থানা পুলিশ। তিনি পুলিশের টেলিকম ইউনিটের কনস্টেবল। প্রেষণে সিএমপির খুলশী থানায় কর্মরত ছিলেন।