পাতাল মেট্রোরেলে সময়ক্ষেপণে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা

রাজধানীর প্রগতি সরণি ও বীরউত্তম রফিকুল ইসলাম সরণিতে পাতাল মেট্রোরেল প্রকল্পে স্থবিরতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা। পাশাপাশি ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপনের কাজে স্থবিরতার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তারা। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১) প্রকল্পের (এমআরটি-১) পরিচালক আবুল কাসেম ভূঁঞা গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।

প্রকল্পের কাজের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য ইউটিলিটি স্থানান্তর (পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস সেবা লাইন স্থানান্তর) জরুরি হয়ে পড়ে। এই কাজ শুরু করার জন্য চলতি বছর এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে তোড়জোড় শুরু করেন এমআরটি-১ প্রকল্পের কর্মকর্তারা। তখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বিকল্প সড়কের চাহিদা জানায় প্রকল্প অফিসকে। সে কারণে চলতি বছর এপ্রিল থেকে উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, আফতাবনগর মেট্রো স্টেশনের ইউটিলিটি স্থানান্তর কাজ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ঢাকা ওয়াসা ঢাকা এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের পাইপলাইন স্থাপনের কাজও বন্ধ করে রেখেছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে একটি সভা হয়। সেখানেও এই পাইপলাইন স্থাপনের কাজে গতি আসার বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারেননি মেট্রোরেল কর্মকর্তারা।

এমআরটি-১ প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেন, পাইপলাইন স্থাপনের কাজ দেরি হলে পাতালপথে মেট্রোরেল নির্মাণও পিছিয়ে যাবে। তখন নির্মাণসামগ্রীর বাজারমূল্য বেড়ে গেলে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। পাতালপথে মেট্রোরেল নির্মাণ শুরুর আগে পরিকল্পনা ছিল কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে কিছু যানবাহন পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক হয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, স্বদেশ প্রপার্টিজ এলাকা হয়ে আফতাবনগর হাউজিং এলাকার মধ্য দিয়ে রামপুরা আসবে। কারণ, কুড়িল বিশ্বরোড থেকে প্রগতি সরণি হয়ে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে মেট্রোরেল রুট নির্মাণের সময় তীব্র যানজটের শঙ্কা রয়েছে। বিকল্প সড়ক নির্মাণ করতে জটিলতা হলো, ওই সড়কের অধিকাংশ অংশ পড়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে। সেই জমি অধিগ্রহণ করে ঠিকাদারের মাধ্যমে দ্রুত সড়ক নির্মাণ করতে হবে। বিকল্প সড়ক নির্মাণ স্থবির থাকায় প্রগতি সরণিতে মেট্রোরেল স্টেশন নির্মাণকাজও স্থবির হয়ে আছে।

সিপি-০৪ প্যাকেজের আওতায় এ স্টেশনগুলো নির্মাণে আন্তর্জাতিক ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। এ লক্ষ্যে এখন বিভিন্ন দরপত্রের আর্থিক মূল্যমান নিরীক্ষা চলছে। এমআরটি-১ প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, ঠিকাদার নিয়োগের আগে ইউটিলিটি স্থানান্তর কাজ শেষ না করা গেলে মেট্রোরেল প্রকল্পের দাতা সংস্থা জাইকা নির্মাণকাজে নানা আপত্তি জানাবে। কারণ, মেট্রোরেল চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগে জাইকার সম্মতিপত্র নিতে হবে।

এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ভূতল (আন্ডারগ্রাউন্ড) অংশে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্রিগেড বেশ কয়েকজন ঠিকাদার নিয়োগ করেছে। তবে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ গতি না পাওয়ায় সেই ঠিকাদাররা প্রগতি সরণিতে কাজ শুরু করতে পারছেন না।

আবুল কাসেম ভূঁঞা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় যে সড়কগুলো রয়েছে, তাতে খোঁড়াখুঁড়ি করতে গেলে তাদের অনুমতি নিতে হয়। প্রকল্প অফিস থেকে আমরা আবেদন জানালেও অনেক সময় তাদের সহযোগিতা মিলছে না।