ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস সংযোগের দাবিতে বিক্ষোভ ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাদুঘর গ্রামে গ্যাস সংযোগ প্রদান ও বাখরাবাদের পরিবর্তে তিতাস গ্যাস নামে নামকরণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে।

বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় ভাদুঘর বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের কাউতলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন তারা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আখতার জাহান, আবু সাঈদ সরদার, আবুল কালাম সরদার, শিক্ষক মোহাম্মদ আবুল হাসান, কাউসার আহমেদ ভূঁইয়া, মাহবুব ভূঁইয়া, মাওলানা সাব্বির আহমদ হানিফ, শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজীসহ বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও গ্রামের সাধারণ মানুষ।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বৃহত্তর ভাদুঘরে গ্যাস সংযোগের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত। দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এসময় দ্রুত গ্যাস সংযোগ না দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে গ্যাস লাইন চালু হওয়ার পর থেকেই তা ‘তিতাস গ্যাস’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন এ নামেই গ্যাস সরবরাহ হয়ে আসছিল। কিন্তু কিছু ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইন্ধনে পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে ‘বাখরাবাদ গ্যাস’ করা হয়। এতে জেলার ঐতিহ্য ও পরিচিতি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই পুনরায় ‘তিতাস গ্যাস’ নামে নামকরণের দাবি জানানো হয়।

এছাড়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপত্তিস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া হলেও জেলার ভাদুঘর গ্রামের অধিকাংশ পরিবার এখনো গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত। রান্নাসহ দৈনন্দিন চাহিদার জন্য গ্যাস সংযোগ অত্যাবশ্যক। অথচ গ্যাস সংযোগের নামে অনেক সময় কর্মকর্তারা ও দালালরা টাকা নিলেও সংযোগ দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। বরং বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাস সংযোগ একটি জাতীয় বিষয়। স্থানীয় প্রশাসনের এখতিয়ার সীমিত। তবে বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ডের কর্মকর্তারা যদি বৈধ কোনো গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে থাকেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।