আবু আলির কারণে মেসিদের লিগে উড়বে ফিলিস্তিনি পতাকা

মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অবশেষে কলম্বাস ক্রুর মাঠে ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে। ক্লাবটির সমর্থকগোষ্ঠী ‘নর্ডেকে’র আবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের পর এমএলএস জাতীয় পতাকা ও রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী স্টেডিয়ামে কোনো সমর্থক নিজ উদ্যোগে পতাকা আনতে পারতেন না। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে ক্লাবের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের জন্মভূমির পতাকা প্রদর্শনের আবেদন করা যায়।

কলম্বাস ক্রু নতুন স্ট্রাইকার হিসেবে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ওয়েসাম আবু আলিকে দলে ভেড়ানোর পর নর্ডেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানায়, যেন মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়। আবেদনের পর এমএলএস ক্লাবটির প্রস্তাব অনুমোদন করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব করা দেশগুলোর পতাকা এখন লোয়ার ডটকম ফিল্ডে প্রদর্শিত হবে।

ফিলিস্তিনের পাশাপাশি আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, কানাডা, ফ্রান্স, ঘানা, নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, উরুগুয়ে ও আরও কয়েকটি দেশের পতাকা থাকবে। তবে এগুলো সরবরাহ ও প্রদর্শন করবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ; সমর্থকরা নিজেদের মতো করে পতাকা আনতে পারবেন না।

২৬ বছর বয়সী আবু আলি ডেনমার্কে জন্মগ্রহণ করলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলছেন ফিলিস্তিন জাতীয় দলের হয়ে। গত দুই বছরে সুইডেন ও মিশরের ঘরোয়া লিগে শীর্ষ গোলদাতা ছিলেন তিনি। আল আহলির হয়ে মাত্র দেড় মৌসুমে ৫৯ ম্যাচে ৩৮ গোল গোল করেছেন। গত ক্লাব বিশ্বকাপে এফসি পোর্তোর বিপক্ষে রোমাঞ্চকর ৪-৪ ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। 

ক্লাব বিশ্বকাপে আল আহলির হয়ে গোল করেন আবু আলি। ফাইল ছবি

'আমি যুদ্ধ থামাতে পারব না, কিন্তু মানুষকে খুশি করতে পারি'

নতুন দলে যোগ দিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আবু আলি। তিনি বলেন, “আমি যুদ্ধ থামাতে পারব না, কিন্তু মানুষকে খুশি করতে পারি। আমার পরিবারকে গর্বিত করাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়তে দেখা আমার জন্য বিরাট সম্মানের।”

আবু আলি বলেন, “আমি আমার পরিবারকে সাহায্য করতে চাই। প্রতিটি পদক্ষেপে আমি তাদের গর্বিত করছি। প্রতিদিন হাঁটার সময়ও আমি পরিবারের কথাই ভাবি।”

আবু আলির বাবা-মা দু’জনই ফিলিস্তিনি হলেও জন্ম লেবাননে। শৈশবে যুদ্ধের কারণে ১৭–১৮ বছর বয়সে তাঁর বাবা একাই ডেনমার্কে পাড়ি জমান। সেখানেই নতুন জীবন গড়তে গিয়ে হারিয়েছেন আপন ভাইদের, আর কখনও দেখা হয়নি বহু আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে। দাদা-দাদীর মুখও দেখার সুযোগ হয়নি।

ওয়েসাম ও তাঁর দুই বোনের জন্ম ডেনমার্কে। তবে ডেনমার্কে বড় হওয়া সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও হারাননি তিনি। বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন তিনি খেলছেন ফিলিস্তিন জাতীয় দলের হয়ে।

আবু আলি বলেন, “আমি যা করছি তা নিজের আর পরিবারের জন্য। তবে একইসঙ্গে পুরো জাতিকে গর্বিত করার সুযোগ পাচ্ছি—এটাই বাড়তি আনন্দ। শরণার্থী শিবিরে বসে মানুষ আমার গোল উদ্‌যাপন করছে—এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে!”

মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ফিলিস্তিনি ফুটবলার। যুক্তরাষ্ট্রে এসে কলম্বাস ক্রুর হয়ে খেলার সিদ্ধান্তকেও খুব কঠিন মনে হয়নি তাঁর কাছে। বরং বাবা-মায়ের উৎসাহেই এই পথ বেছে নিয়েছেন। “অনেক অফারের মধ্যে আমার বাবা-মাই বেছে নিয়েছেন সবচেয়ে দূরেরটিকে। কারণ এটাও এক ধরনের সুযোগ। সাহসী পদক্ষেপ বটে, কিন্তু আমি মনে করি শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই মানুষ—এই বিষয়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

আগামী শনিবার কলম্বাস ক্রুর হোম ম্যাচে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শিত হবে। একই সঙ্গে এটিই হবে ওয়েসাম আবু আলির কলম্বাস ক্রু জার্সিতে অভিষেক হোম ম্যাচ।