ডেসারাট নিউজে প্রকাশিত নিবন্ধ

ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, পরবর্তী সরকারের কোনো পদে থাকব না: ড. ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেসারাট নিউজে লেখা এক নিবন্ধে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি; আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর পর যে সরকার আসবে, আমি সেখানে নির্বাচিত বা মনোনীত কোনো পদেই থাকব না।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ধাপে ধাপে আমরা পুনর্গঠন শুরু করেছি। যে রাজনৈতিক দলগুলো একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, নতুনভাবে গঠিত দলগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে তারা ধারণা, উদ্যম ও কার্যক্রম উপহার দিয়েছে। সেনাবাহিনীও প্রশংসনীয় সংযম দেখিয়েছে—৫ আগস্ট যখন বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার আহ্বান উঠেছিল, তখন তারা পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সাহায্য করেছে।

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরতে পারবে। ভোটাধিকার সম্পন্ন প্রতিটি নাগরিককে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া—যার মধ্যে প্রবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত—অনেক বড় কাজ। কিন্তু আমরা তা সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, প্রতিবেশী ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক জোরদার করতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সংস্কার করেছি। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য একটি মূল কেন্দ্র হতে পারে এবং হওয়া উচিত।

ট্রাম্প প্রশাসন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ড. ইউনূস বলেন, সম্প্রতি আমার সঙ্গে তার একটি ফলপ্রসূ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগকেন্দ্রিক এই আলোচনা আমাদের দুই দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনতে পারে। যুক্তরাজ্য, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং জাতিসংঘও আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। আমরা একা নই।

প্রফেসর ইউনূস আরও বলেছেন, নির্বাচন প্রস্তুতির পাশাপাশি আমরা বড় পরিসরে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছি যা বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের বিস্তৃত পরামর্শের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংবিধান সংশোধনী যা শক্তিশালী চেক অ্যান্ড ব্যালান্স প্রতিষ্ঠা করবে। বাংলাদেশে যেন আর কখনো একনায়কতন্ত্র ফিরে না আসতে পারে।