যুক্তরাষ্ট্রের ৫ কোটি ৫০ লাখ ভিসাধারী অভিবাসীর রেকর্ড পর্যালোচনা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পর্যালোচনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা থাকার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন কি না বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। খবর বিবিসি
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, তাদের ওপর ‘নিরবিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ’ চলবে।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘যদি কারও বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি, কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকা অথবা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার ভিসা বাতিল করা হবে।’
দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী নীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি ৬ হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছেন, কিছু দেশের ওপর পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছেন এবং অভিবাসীদের গণহারে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এই পর্যালোচনার অংশ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে আসতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও ভ্রমণকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে। কর্মকর্তারা তাদের পোস্ট খতিয়ে দেখবেন— কারও মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রের মৌলিক আদর্শের প্রতি কোনো ধরনের বিরূপ মনোভাব আছে কি না।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যারা বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন বা সহায়তা করে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বা বেআইনিভাবে ইহুদিবিরোধী হামলা চালায়—তাদের সনাক্ত করার জন্য।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের মুখপাত্র ম্যাথিউ ট্র্যাগেসার বিবিসিকে বলেন, ‘যারা আমেরিকাকে ঘৃণা করে এবং আমেরিকাবিরোধী আদর্শ প্রচার করে, তাদের আমেরিকার সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিবাসন বিভাগ এমন নীতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা ‘আমেরিকাবিরোধী মনোভাবকে উৎখাত করতে’ সহায়তা করবে।’
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দিয়েছেন, বিদেশি ট্রাক চালকদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসা দেওয়া তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘বিদেশি চালকদের সংখ্যা বাড়ছে, যারা বড় ট্রাক চালাচ্ছেন—এতে আমেরিকানদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে এবং স্থানীয় চালকদের রোজগার কমে যাচ্ছে।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে—মালাউই ও জাম্বিয়ার নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসা পেতে হলে ১৫ হাজার ডলার জামানত দিতে হবে।
এছাড়া, ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং আরও ৭টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন ট্রাম্প।
চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ৫ লাখেরও বেশি অভিবাসীর বৈধতা সাময়িকভাবে বাতিল করার অনুমতি পেয়েছে। তিনি এমনকি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল করারও অঙ্গীকার করেছেন।